শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

মৌলভীবাজারে বোরোর বাম্পার ফলন তবুও শঙ্কা

মৌলভীবাজারে বোরোর বাম্পার ফলন তবুও শঙ্কা

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মৌলভীবাজারে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ বছর ৫৪ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। চলতি মাসে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শতভাগ ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

মৌলভীবাজারে মোট চার লাখ এক হাজার ৪০০ মেট্রিকটন চালের চাহিদার বিপরীতে এ বছর শুধু বোরো থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ আট হাজার মেট্রিকটন। যা মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরের আগাম বন্যায় বানের পানিতে তলিয়ে যায় মৌলভীবাজারের বোরো ধান। বন্যায় জেলার ১১ হাজার ৬২১ হেক্টরের বোরো ও আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছিল। এর মধ্যে বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল ৯ হাজার ৯১৪ হেক্টর ও আউশ ধান এক হাজার ৭০৭ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে চাল উৎপাদন হতো ৩৩ হাজার ৯০৭ মেট্রিক টন। আগাম বানের পনিতে সোনালি ফসল হারিয়ে কৃষকরা হয়ে পড়েন দিশেহারা।
গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এ বছর জেলার হাকালুকি, কাউয় দিঘী, কেওলার হাওরপাড়সহ অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকরা বুকভরা স্বপ্ন কৃষি অফিসের সহযোগিতায় চাষ করেছেন বোরো ধান।

মৌলভীবাজারে এ বছর ৫৪ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১৯ হাজার ৩৬৬ হেক্টর। বাকিটুকু চাষ হয়েছে হাওরপাড়সহ অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চলে। হাওরাঞ্চলের মধ্যে এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া উপজেলা অংশে চার হাজার ৫৮০ হেক্টর, জুড়ী উপজেলায় চার হাজার ৯০০ হেক্টর, বড়লেখা উপজেলায় দুই হাজার ৪৭৫ হেক্টর, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে তিন হাজার ৩৭৩ হেক্টর, কমলগঞ্জ উপজেলার কেউলার হাওরে ৪০০ হেক্টর, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের তিন হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
কৃষি অফিস জানায়, মৌলভীবাজারের মোট চাহিদা চার লাখ এক হাজার ৪০০ মেট্রিকটন চালের বিপরীতে এ বছর শুধু বোরো থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ আট হাজার মেট্রিকটন চাল। যা মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ।

এশিয়ার বৃহৎ হাওর হাকালুকিকে ঘিরে দুই লাখ মানুয়ের জীবন। তবে আবওয়া নিয়ে আতঙ্কে আছেন কৃষকরা। হাকালুকি হাওরপাড়ের ভুকশিমইল ইউনিয়নের কৃষক মাসুক মিয়া জানান, গত বছরের অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে হাওর পাড়ের কৃষকদের শতভাগ বোরো ধান। অর্থনৈতিক দৈন্যদশার পাশাপাশি সীমাহীন খাদ্য সংকটে পড়া কৃষকরা এবার বোরো চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঘন ঘন বৃষ্টি তাদের মনে শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। হাকালুকি হাওর ছাড়াও জেলার অন্য হাওর পাড়ের কৃষকদের মাঝেও এ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাকালুকি হাওরসহ জেলার বড়লেখ,কুলাউড়া, জুড়ি ও রাজনগর উপজেলায় বোরো ধান কাটা শেষ র্পযায়ে চলে আসবে একং জেলার উঁচু এলাকা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে আগামী ১০ দিনের ভেতরেই শুরু হবে ধান কাটার উৎসব। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রকৃতির ওপর। প্রকৃতি যদি এপ্রিল মাসে সহায় থাকে তবেই পূরণ হবে লক্ষ্যমাত্রা। এপ্রিলের ২০ তারিখের ভেতরেই ৭০% ফসল সফলভাবে ঘরে তুলা সম্ভব হবে।
হাওর বাঁচাও কৃষক বাচাঁও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আলাউদ্দিন জানান, শুকনো মৌসুমে হাকালুকি হাওরের বুড়িকিয়ারী বাঁধ ও হাওরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সকল নদী খনন না করায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের উপ-পরিচালক মো. শাহাজান জানান, সময় মত সার ব্যবহার, ভালো চারা বাচাইসহ কৃষকদের সর্বোচ্চ পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতার ফলে কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের পরিশ্রমের ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। যদি এপ্রিল মাস আবহাওয়া ভালো থাকে তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শতভাগ সফল হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ