বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

মৎস্য সপ্তাহেও রুখা যাচ্ছে না সিলেটে কারেন্ট জালের ব্যবহার

মৎস্য সপ্তাহেও রুখা যাচ্ছে না সিলেটে কারেন্ট জালের ব্যবহার

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:একদিকে বন্যার পানি আর অপরদিকে জেলেদের জালে জাটকা ইলিশের ছড়াছড়ি, তাঁর সাথে মাঝে মধ্যে বড় ইলিশও! এদিকে দেশব্যাপী চলছে মৎস্য সপ্তাহ। বলছিলাম সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীর কথা। জেলেদের নিষিদ্ধ কারেন্ট জালেই ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে জাটকা ইলিশ। বছরে নামমাত্র কয়েকটি অভিযান দিয়েই দায় সারেন মৎস্য কর্মকর্তা। মৎস্য রক্ষায় জনসচেতনতায় নেই কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ। ফলে উপজেলার প্রতিটি বাজারগুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এই কারেন্ট জাল, যা এখন ওপেন সিক্রেট। তবে নদীতে অন্য মাছ তেমন একটা ধরা না পড়ায় জাটকাই ধরছেন তাঁরা, জানালেন জেলেরা।
জাটকা ইলিশের কথা মনে পড়তেই বিটিভিতে দেখা শক্তিমান রসিক অভিনেতা সুজা খন্দকারের সাদেক আলী চরিত্রের একটি সরকারি বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে গেলো। ওই বিজ্ঞাপনের পর সুজা খন্দকারের নামই পড়ে গিয়েছিলো “সাদেক আলী”। ওই সময় জাটকা সংক্রান্ত তাঁর করা নাটিকাটি সকল মহলে খুবই আলোচিত হয়েছিলো। নাটিকটির ডায়লগ ছিলো এমন- ঝাঁকে ঝাঁকে জাটকা, কারেন্ট জালে আটকা। মাছের গুষ্ঠি দেখাও ফাল, লগে আনছি কারেন্ট জাল। এভাবে মনোমুগ্ধকর ডায়লগ ছিলো এই বিজ্ঞাপনে।
হ্যা! এই নিষিদ্ধ কারেন্ট জালেই ফেঞ্চুগঞ্জের কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীতে ধরা পড়ছে জাটকা ইলিশ। গত কয়েকমাস পূর্বে ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের শুটকির গোদামঘর থেকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ৬৬০ পিছ অর্থাৎ ৫২ হাজার ৮০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে তা পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা জরিমানা করা হয়নি।
জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি বাজারগুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এই কারেন্ট জাল। মৎস্য কর্মকর্তার দায়সারা অভিযানের তোয়াক্ষা করেন না এই অসাধু ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার ফেঞ্চুগঞ্জ মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায় জাটকা ইলিশ নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। জানতে চাইলে পানি বেড়েছে তাই কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীতে এমন মাছ ধরা পড়ছে। এ সময় মাছ কিনতে আসা একজন জানালেন, প্রশাসনের অবহেলায় কারেন্ট জালের ব্যবহারে নদীগুলোতে অবাদে পোনা মাছ মারা হচ্ছে। মাছের বংশ বৃদ্ধিতে বিরাট অন্তরায় জানালেন এই সচেতন ক্রেতা। এমন খবরে ওই দিন (বৃহস্পতিবার) বিকেলে নৌকা নিয়ে কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় জেলেদের নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার। ডাক দিয়ে জিজ্ঞেশ করতেই মধ্য বয়সী এক জেলে নাম না বলার শর্তে জবাব দিলেন- জালতো ফেছুগঞ্জ (ফেঞ্চুগঞ্জ) বাজারো পাওয়া যায়, মাছোর আখাল লাগছে (মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা), কারেন্ট জাল থাখায় বৌ বাইচ্চা লইয়া ভাত চাইট্টা খাইয়ার (কারেন্ট জাল পাওয়ায় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ভাত খেতে পারছি), প্রশাসনে আমরারে ধরিয়া কিতা খরতো (প্রশাসন আমাদের আটক করে কি করবে), যেতায় বেছরা ওতারে গিয়া আগে ধরউক (বিক্রেতাদের আগে আটক করা হউক)। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় এই কথাগুলো বলেছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই জেলে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসরুপা তাসলিম জানান, অভিজান অব্যাহত আছে, আজও (২০ জুলাই) ইউএনও স্যার মোবাইল কোর্ট করেছেন। তবে কারা কারেন্ট জাল বিক্রি করে খবর পাইনা। আপনারা (প্রতিবেদককে) তথ্য দিয়ে জানাবেন।
জেলেরাসহ সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, জানালেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জসীম উদ্দিন। তিনি জানান, সমস্যা অনেক তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কম। মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচির অংশ আজকের মোবাইল কোর্ট। নদী থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার (৩০ পিছ) কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়ানো হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো জানান, অভাবের তাড়নায় একশ্রেনীর জেলেরা জাটকা নিধন করছে, যা অপরাধ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জনসচেনতার উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। তাছাড়া নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ ধরে বাজারে বিক্রি করছেন জেলেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ