সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১০ পূর্বাহ্ন

যে কারনে নির্বাচনী আমেজ নেই সিলেট-২ আসনে 

যে কারনে নির্বাচনী আমেজ নেই সিলেট-২ আসনে 

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনের প্রার্থীরা জোর প্রচারে থাকলেও নেই নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থী ইস্যুতে জোটের হিসাব না করে নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ইলিয়াস নিখোঁজ ইস্যুতে লুনাকে নিয়েই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন নেতাকর্মীরা।

এরই মধ্যে লুনার প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনী আমেজে একেবারে ভাটা পড়েছে। পাল্টে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশও। একাধিক বিএনপি সমর্থক যুগান্তরকে বলেন, ধানের শীষ অথবা লুনা না থাকলে তারা নির্বাচনের দিন ভোটই দেবেন না। তবে লুনার মনোনয়ন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হবে বলে আশাবাদী তারা।

ইলিয়াসপুত্র আবরার ইলিয়াস অর্ণব বলেন, এলাকায় নেতাকর্মীরা প্রচার চালাচ্ছেন। মনোনয়ন ফিরে পেতে আম্মা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে ঢাকায় আছেন। সোমবার (আজ) উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আশা করি আদালতে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মনোনয়ন ফিরে পাবেন। এদিকে মহাজোট থেকে এহিয়া চৌধুরী প্রার্থী হলেও তার সঙ্গে নেই মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

তাই চরম বিপাকে মহাজোটের এই প্রার্থী। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে ভিন্নপথ অবলম্বন করছেন। অভিমানী কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগ ঘরানার স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী মুহিবুর রহমান ‘ডাব’ ও ড. এনামুল হক সরদারের ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে ভাবছেন।

ইতিমধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমর্থনও করেছেন। স্বতন্ত্র এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুনতাসির আলীর দিকেও হিসাব গুনছেন বিএনপি আ’লীগের নেতাকর্মীসহ অনেকেই।

২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা থেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ও এই আসনের সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। নিখোঁজের ৬ বছর অতিবাহিত হলেও ইস্যুটি এখনও এলাকায় আলোচনার বিষয়।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় এই আসনে দলটির কোনো প্রার্থী ছিল না। ইলিয়াস নিখোঁজের পর থেকেই সিলেট-২ আসনে কাজ করে যাচ্ছেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাহসিনা রুশদীর লুনা। নির্বাচন করার জন্য চলতি বছরের পহেলা জুলাই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। বিএনপির তথা ইলিয়াস পরিবারের আগে থেকে লুনার প্রার্থিতা নিয়ে আশঙ্কা ছিল।

তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার ছেলে আবরার ইলিয়াছ অর্ণবকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। দু’জনই দলীয় মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মা-ছেলের দুটি মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করেন। প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা কেটে যাওয়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান অর্ণব। আর ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হন লুনা। লুনা প্রতীক পাওয়ায় এই আসনে ইলিয়াস ইস্যুটি আবারও সামনে চলে আসে।

ধানের শীষে ভোট দিলে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে নেতাকর্মীরা মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্যের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার ইলিয়াসপত্নী লুনার প্রার্থিতা স্থগিত করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তারপরও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে সর্বত্র চলছে মাইকিং আর উঠান বৈঠক। তাদের ধারণা, আইনি লড়াইয়ে লুনা প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। তাই তারা নির্বাচনী প্রচারণা থেকে পিছু হটেননি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, তারা ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। অপরদিকে সিলেট-২ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির তিন নেতা। তারা হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। আর জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সাংসদ ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। অবশেষে এই আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে যান জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী।

এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মহাজোট প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরীর ওপর অভিমান করে অনেকটা প্রচারবিমুখ হয়ে রয়েছেন। লাঙ্গল প্রতীকের গণসংযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া  বলেন, এখনও আওয়ামী লীগ নেতাদের মান ভাঙাতে পারিনি। চেষ্টা করছি। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা আমার পাশে আছেন। আশা করছি শিগগিরই আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিমানা ভাঙবে।
এদিকে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে যে কোনো একজনকে নিয়ে নির্বাচন করবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। যুগান্তরকে এমন আভাস দিয়েছেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীও। ‘ডাব’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান জানান, নৌকা পুনরুদ্ধার করতে হলে অবশ্যই নেতাকর্মীরা কাজ করবেন। মুরব্বিরা চাইলে প্রয়োজনে আমরা দু’জন থেকে যে কোনো একজন নির্বাচন করব। তবুও নৌকা পুনরুদ্ধার করতে হবে। আর ‘সিংহ’ প্রতীকের প্রার্থী ড. এনামুল হক সরদার বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপি নয়, যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সবাই আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ