বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

যৌবন ফিরে পাচ্ছে সিলেট যুবলীগ: ব্যালটে নেতা নির্বাচন

যৌবন ফিরে পাচ্ছে সিলেট যুবলীগ: ব্যালটে নেতা নির্বাচন

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট:সম্মেলনে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে যুবলীগে। অ্যাক্টিভ হতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। প্রার্থীতা ঘোষণা আর নগরজুড়ে পোস্টারিং। সবমিলিয়ে যুবলীগের যৌবন যেনো ফিরতে শুরু করেছে ।

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। প্রার্থী থেকে ভোটার সবার মধ্যেই দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

শুরু থেকেই ব্যালেটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সকলে। তবে শঙ্কা ছিলো, কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয় কি না। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন- ভোটের মাধ্যমেই নেতা নির্বাচন করা হবে।

তবে ব্যালোটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচন হলেও সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক প্রার্থী। এখনও ভোটার তালিকা হাতে না পাওয়ায় এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমান দায়িত্বশীলরা ইচ্ছেমতো ভোটার তালিকা করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আরও কয়েকটি স্থানে ভোটের মাধ্যমেই যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। এতে আরও আশ্বস্থ হয়েছেন সিলেটের নেতারা। সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের প্রার্থী ও ভোটাররাও পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনের।

২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলন। এরপর জেলার সম্মেলন হবে ২৯ জুলাই। যুবলীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ভোটাররাও ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন।

এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুরোপুরি নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সাঁটানো হয়েছে ছোট বড় ফেস্টুন, ব্যানার। প্রার্থীদের গণসংযোগ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ভোটারদের উৎসাহ উদ্দীপনা নির্বাচনী আমেজ আরও জোরদার করছে।

সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থলের রেজিস্টারি মাঠে সম্মেলনের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব শেষে রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল মিলনায়তনে হবে কাউন্সিল অধিবেশন। দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরা গোপন ব্যালটে ভোট দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন। জেলা ও মহানগর যুবলীগের শীর্ষ দুই পদেই একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট অনেকটা অবধারিত হয়ে গেছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

সিলেট জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থী শামীম আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন করেছেন। তাই নেতার উপর অগাধ বিশ্বাস ও আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি সিলেট যুবলীগেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন হবে। ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে যোগ্য নেতা নির্বাচন করবেন।

সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সভাপতি পদপ্রার্থী আলম খান মুক্তি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই নেতা নির্বাচন হবে। সেই লক্ষেই পদ প্রত্যাশীরা কাজ করছেন। এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সিলেট নগর। সবাই অপেক্ষায় আছেন কাউন্সিলের জন্য।

তবে সিলেট মহানগর যুবলীগের আরেক সভাপতি প্রার্থী শান্ত দেব বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হলেও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে। কারণ এখন পর্যন্ত আমরা ভোটার তালিকা হাতে পাইনি। কাউকে না জানিয়ে মনগড়া ভোটার তারিকা করেছে বর্তমান আহবায়ক কমিটি। ভোটর সব তাদের মানুষ। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলেও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

সিলেট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এম রায়হান উদ্দিন বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে আমি চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে নেতা নির্বাচন করা হোক। সিলেটে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই যোগ্য নেতা নির্বাচন করবেন।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক বলেন, সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে আমরা প্রথম অধিবেশনের পর দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিল করব। দুই পদে গোপন ব্যালটে ভোটাভুটি হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের পর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয় ২০০৩ সালে। তবে সেই সম্মেলনে ভোট হয়নি। সমঝোতার ভিত্তিতে ওই সম্মেলনে জগদীশ চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও আজাদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এ কমিটি আর সম্মেলন করতে পারেনি। ২০০৮ সালে এক-এগারোর পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থায় জগদীশ ও আজাদুর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার সময় দলীয় পদ ত্যাগ করেন। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের কারাবন্দী হলে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে থাকা শামীম আহমদ নেতৃত্বের হাল ধরেন। তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে এ পদে আছেন।

অন্যদিকে মহানগর যুবলীগে সম্মেলন হয়েছিল ২০০৫ সালে। সৈয়দ শামীম আহমদ ও আবদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আলম খান মুক্তিকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু পাঁচ বছরেও মহানগর সম্মেলন হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ