মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

রাজন বাহিনীর হাতে জিম্মি নগরীর নোয়াপাড়া মাদক ব্যবসার দন্দে চলে অস্ত্রের ঝনঝনানি

রাজন বাহিনীর হাতে জিম্মি নগরীর নোয়াপাড়া মাদক ব্যবসার দন্দে চলে অস্ত্রের ঝনঝনানি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:: সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানাধানী নোয়াপাড়া ও আখালিয়া এলাকা যেন হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের এক স্বর্গরাজ্য। কুপাকুপি-গুলাগুলি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার কারনে অত্র এলাকার জনসাধারন অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। রাজন-সুমন নামে এলাকার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসীর সমন্বয়ে গঠিত রাজন বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে আছেন এলাকার সাধারন মানুষ। নগরীর আখালিয়া, নোয়াপাড়া এলাকায় রাজন-সুমন নামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী গড়ে তুলেছে এক ভয়ংকর গ্যাং। যে গ্যাং এ রয়েছে ১৪/১৫ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে এলাকার বখাটে ও নেশাগ্রস্ত যুবকেরা। এই গ্যাং মাধ্যমে রাজন বাহিনীর প্রধান রাজন এলাকায় চালিয়ে যাচ্চে মাদকব্যবসা ও বেপোরোয়া চাঁদাবাজি। এলাকায় বাসা-বাড়ি নির্মানে চাঁদা আদায় করা থেকে শুরু করে অপহরন করে মুক্তিপণ আদায়, প্রবাসীদের খালি প্লট দখল করে চাঁদা আদায় এটা এখন রাজন-সুমনের মুল পেশা। তাদের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে অসহনীয় নির্যাতন। যারফলে প্রকাশ্যে এরা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস দেখায় না।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আখালিয়া নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পাঠানটুলা সিএনজি স্ট্যান্ডের ম্যানেজার বাবু মিয়ার দুই ছেলে রাজন আর সুমন। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত এই দুই ভাই কিছুদিন আগেও এলাকায় বিএনপি ক্যাডার হিসাবে পরিচিত ছিল। আগে থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসা দুই ভাই কিছুদিন থেকে হঠাৎ করে তারা নিজেদেরকে মহানগর আওয়ামীলীগের এক নেতার অনুসারী পরিচয় দিয়ে এলাকায় আরও বেপরোয়া আচরন শুরু করেছে। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, ব্যবসায়ীদের ধরে এনে মৃক্তিপণ আদায়, প্রবাসীদের ভুমি দখল, বাড়ি নির্মানে চাঁদাবাজি এসব রাজন বাহিনীর প্রধান রাজনের এখন নিত্যদিনের ব্যপার। রাজনের বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকার প্রবাসীগনও রাজনের ভয়ে দেশে আসতে চান না।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে এলাকার কিছু মুরব্বীগন জানান, জালালাবাদ থানাধীন নগরীর নয়াবাজার, আখালিয়া, নোয়াপাড়া, কালিবাড়ি, হাওলদারপাড়া এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট ও কিশোরর গ্যাং। এই সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজন-সুমন দুই ভাইয়ের সমন্বয়ে গঠিত আখালিয়া নোয়াপাড়া এলাকার রাজন গ্রুপ। রাজন, সুমন ছাড়াও এই গ্রুপের অন্যতম ক্যাডার হচ্চে, সাকিব, তানবীর, ইমন, সকিল, কালাশাহ, আশরাফ, মোয়াজ। এরা বেশির ভাগই ১৪/১৫ বছরের কিশোর। তাদের হাতে বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় এলাকার সাধারান মানুষ তো দুরের কথা তাদের প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপগুলোও রাজনগ্রুপের মোকাবেলা করার সাহস দেখায়না। আদিপত্য বিস্তার আর মাদক ব্যবসার অর্ন্তদন্দে কিছুদিন পরপরই এই গ্রুপগুলোর মধ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনা যায়। কিছুদিন আগেও রাজন গ্রুপের সাথে অন্য আরেকটি গ্রুপের গুলাগুলিতে একজন পথচারিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। নগরীর নয়াবাজার, নোয়াপাড়া, আখালিয়া, মদিনা মার্কেট ও কালিবাড়ি এলাকায় যত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে তার বেশির ভাগ ছিনতাই হয় রাজন গ্রুপের রাজনের নেতৃত্বে। রাজন গ্রুপের প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে এসএমপির বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরনসহ নানা অভিযোগে রয়েছে ১০/১২টি করে মামলা। এদের মধ্যে গ্রুপ প্রধান রাজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৭টি মামলা। যার মধ্যে এসএমপির কতোয়ালী থানায় ৫টি এ জালালাবাদ থানায় রয়েছে ১২টি মামলা।যার সবগুলোই অস্ত্র, মাদক, মারামরি, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অপহরনের অভিযোগে। একই অভিযোগে রাজন গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড সুমনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮ টি মামলা। যার মধ্যে এসএমপির কতোয়ালী থানায় ৭টি ও জালালাবাদ থানায় রয়েছে ১১টি মামলা। রহস্যজনক কারনে এসব মামলায় তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেলেও বর্তমানে কতোয়ালী থানায় অপহরনের অভিযোগে এক ব্যক্তির দায়ের করা একটি মামলায় রাজন পলাতক আছে। আর পলাতক অবস্থায় থেকেই রাজন এলাকায় চালিয়ে যাচ্চে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে রাজন এলাকায় প্রবাসীদের বেশ কয়েকটি খালি প্লটে জোরপুর্বক ঘর তৈরি মাদকের আস্তানা গড়ে তুলেছে। যে আস্তানা গুলোতে সন্ধ্যার পর জমে উঠে মাদক ব্যবসা। আর সেই ব্যবসার খদ্দের বাড়াতে রাজন মাদকাসক্ত করে তুলছে পাড়ার স্কুল কলেজে পড়ুয়া কিশোরদের। প্লট মালিকেরা বারবার রাজনকে তাদের প্লট খালি করতে বললে রাজন তাদের কাছে বড় অংকের চাঁদা দাবী করে আসছে বলে অনেক প্রবাসীগনের অভিযোগ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারনে রাজন অনেককে ধরে এনে হাত পা কেটে ফেলারও মত অনেক ঘটনাও ঘটিয়েছে। এজন্য রাজন বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট হলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ করতে চায়না। কারন ওরা জেলে গেলেও আবার দ্রুত বেরিয়ে এসে অভিযোগকারীর উপর প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। আবার কোন কোন সময় একটি অপরাধ করে কিছু দিনের জন্য গা ঢাকা দেয়, পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বেরিয়ে এসে একই ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে।

এব্যাপারে এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজনগংদের বিরুদ্ধে আমার থানায় একাধিক মামলা থাকলেও সেসব মামলায় রাজনগংরা আদালত থেকে জামিনে থাকায় আমরা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছিনা। তবে মাদক নির্মুলে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।এদের বিরুদ্ধে কোন ভুক্তভোগী নুতুন করে কোন অভিযোগ দিলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ