সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

রাস্তার দুর্ভোগ মিটবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ১০ সহস্রাধিক মানুষের

রাস্তার দুর্ভোগ মিটবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ১০ সহস্রাধিক মানুষের

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১টি রাস্তার কাচা অংশ পাকা হওয়ায় দুর্ভোগ কমতে যাচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজারেরো বেশি মানুষের। উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের কামরূপদলং সংযোগ সড়কের কান্দিগাঁও জামে মসজিদের সামন থেকে আলী হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত ৫শ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যে নির্মাণ হচ্ছে রাস্তাটি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দক্ষিণ সুনামগঞ্জ শাখার আওতায় করানো এ রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হলে সদরপুর, কামরূপদলং, পার্বতীপুর, সুলতানপুর, কান্দিগাঁও ও আস্তমা গ্রামের কিছু অংশসহ নাইন্দারপাড় খ্যাত এই পাঁচগ্রামের ১০ হাজারেরো বেশি সাধারণ মানুষসহ সহস্রাধিক কৃষকের চলাচলের প্রধান রাস্তা হিসেবে আরো কদর বাড়বে এ সড়কের। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কের কাজের দীর্ঘ সময় থাকলেও আগামী দুই মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ করতে চায় উপজেলা এলজিইডি। এ নিয়ে স্বস্তি বিরাজ করছে এলাকার সাধারণের মনে।

জানা যায়, বছর দু’এক আগে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে সংযোগ হয়ে সদরপুর, কামরূপদলং হয়ে কান্দিগাঁও জামে মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয় পাকা সড়কের কাজ। বাকী অংশ কাচা থেকে যায়। যা বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে ভরে উঠতো। চলাচলে অনুপযোগি হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিলো না। এ রাস্তা দিয়ে ধানের বস্তা, ধান বোঝাই ঠ্যালাগাড়ি, গরুর গাড়ি, মাড়াইকল আনা নেওয়া যেনো একটি মহাকর্মযজ্ঞই ছিলো। কৃষকরা কাদাপানিতে ভরে এ রাস্তা ব্যবহার করতেন। এবছর ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ রাস্তার পুরো অংশ নির্মান হলে কান্দিগাঁওয়ের শেষ মাথা আলী হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত যেতে কৃষকের দুঃখ, দুর্ভোগ কমে আসবে। আর এ পর্যন্ত যেতে পারলেই পাকা হয়ে দেখার হাওরে পা রাখতে পারবেন তারা। ধান বোঝাই করা গাড়ি কিংবা মাড়াই কল নিয়ে দেখার হাওরে যেতে কষ্ট কমে যাবে অর্ধেক। এই রাস্তা সম্পূর্ণ অংশ নির্মানে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো। এই অংশটুকুর কাজ শেষ হলে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদরপুর-কামরূপদলং পয়েন্ট থেকে দেখার হাওরের পাদদেশে কান্দিগাঁও-এর শেষ পর্যন্ত পুরো রাস্তা পাকা করণের কাজ শেষ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা কাচা মাটিতে নতুন রাস্তা নির্মাণের ঢালাইয়ের কাজ চলছে। বেশ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ঠেলা বুঝোই করে রাস্তায় বালু ফেলছে। রাস্তার দু’পাশে ইটের শেল্টার দেওয়া, ঢালাইয়ের মেশিনের মাধ্যমে বালু, পাথর ও সিমেন্ট মিশিয়ে রাস্তায় ঢালছে কিছু শ্রমিক। পাশে বসে কাজের তদারকি করছেন উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ। উপজেলা এলজিইডির এই কর্মকর্তা জানান, সরকারিভাবে এই রাস্তা পাকা করনের যতেষ্ট সময় হাতে আছে। তবে তিনি ত্রিশ দিনের বেশি সময় নিতে চাননা। এর ভিতরেই কাজ শেষ করে ফেলবেন। এক সাথে এ কাজ শেষ করা সম্ভব না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, তাদের হাতে এই মূহর্তে যে পরিমান ম্যাটেরিয়াল্স প্রস্তুত আছে তা দিয়ে ২শ ২০ মিটার জায়গা পর্যন্ত একসাথে কাজ করাতে পারবেন। বাকী অংশ খুব তারাতারিই করাবেন বলে জানিয়েছেন।

পার্বতীপুরের আবদুল করিম ও কান্দিগাঁও-এর আবদুর রহমান  বলেন, ‘এই রাস্তা আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণের রাস্তা। এই রাস্তা পাকা হলে আমাদের চলতে ফিরতে অনেক সুবিধা হবে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হবে। হাওর থেকে ধান আনতে কামরূপ দলং, আস্তমার কিছু অংশ, সদরপুর, পার্বতীপুর, কান্দিগাঁও ও সুলতানপুরের হাজার হাজার কৃষকরা এই রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও এই পাঁচ গ্রামের ১০ হাজারেরো বেশি মানুষ এ রাস্তা ব্যবহার করবেন। রাস্তাটা হচ্ছে দেখে আমরা সরকারের উপর খুব খুশি আছি।’
আবদুল মছব্বির ওরফে সুনু মিয়া বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সাব আমরার অনেক উপকার করেরা। এই রাস্তাও তাইন আনিয়া দিছইন। তাইনরে আমরা আগামীতে ভোট দিমু। এই রাস্তা হওয়ায় আমরার ফেঁক পানিতে আর ভিজিয়া ধানোর গাড়ি টানা লাগতো নায়। আমরা বেশ কষ্ট কমিজিবো।’

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র প্রকৌশলী রুবাইয়াৎ জামান বলেন, ‘আমরা কাজ নিয়ে যতেষ্ট আন্তরিক। কাজের কোয়ালিটিতে কোনো কোনো ছাড় দেবো না। যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজ শেষ করবো ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ