বুধবার, ১৭ Jul ২০১৯, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

রুহ শক্তিশালী হয় সংযমে

রুহ শক্তিশালী হয় সংযমে

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্ম ডেস্ক:রমজান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করে এর তিনটি মর্যাদা ও কল্যাণের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আউয়ালুহু রাহমাতুন আওসাতুহু মাগফিরাতুন আখেরুহু ইতক্বুম মিনান্নারি।

প্রথম দশক রহমতের, মাঝের দশক ক্ষমার, শেষের দশক দোজখের আগুন থেকে বাঁচার। এখন চলছে রহমতের দশক। রহমত শব্দটির অর্থ দয়া। এই শব্দটি যেমন মাহে রমজানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তেমনি রাসূল (সা.)-এর সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

আল্লাহ বলেন, ওয়া মা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন। আমি তোমাকে সারা দুনিয়ার রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি। কবির ভাষায়, তুমি রহমতে আলম, জানে তা সারা দুনিয়া, তুমি রহমতে আলম।

মানুষের ভেতর নফস এবং রুহ দুটি শক্তি আছে। নফস হল দেহের শ্রমিক আর রুহ হল দেহের রাজা। দেহের রাজাকে শক্তিশালী না করতে পারলে শ্রমিক নফস নানা কুমন্ত্রণায় দেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নানা গর্হিত কাজে জড়িয়ে দেয়। কালামে পাকে আছে, হজরত ইউসুফ (আ.)-এর জবানে প্রকাশিত হয়েছে, ওয়া মা উবার রিউ নাফসি- আমি নফসের বরাই করি না, ইন্নান নাফসা লা আম্মারাতা বিসসুঈন।

নিশ্চয়ই নফস অশুভ কাজের আদেশ দেয়, ইল্লা মা রাহিমা রাব্বি, তবে আমার রব যার প্রতি দয়া করেন তাকে ছাড়া। ইন্নাস সালাতা তানহা আনিল ফাহশায়ি ওয়া মুনকার নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।

যে নামাজ আমাদের ফাহেশা থেকে দূরে রাখার কথা, দেখা যায় তা নিয়মিত আদায়ের পরও ফাহেশা ছাড়তে পারি না। যে রোজা আমাদের সংযমের শিক্ষা দেয়, দেখা যায়, জীবনভর রোজা রেখেও আমাদের আচরণ অসংযমী, একজন আরেক জনকে সহ্য করতে পারি না।

এই দেশের ইসলামের মুবাল্লিগ বা ধর্ম প্রচারকরা সুফি প্রভাবিত থাকায় মানুষের মাঝে প্রেম ও সেবার মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার করেছেন। ইসলাম কবুলের পর তাদের তাকওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যাতে নফসে আম্মারা দমন করে দেহের রাজা রুহকে শক্তিশালী করা যায়।

মুর্শিদে তরিকত শাহ কলন্দর বলেন, ‘তোমার নফসকে আলাতুসসালাসা বা তিনটি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বাধ্য করে নাও নতুবা সে অবাধ্য হয়ে তোমার ওপর ছড়ি ঘুরাবে। সেই আলাতুসসালাসা হল খঞ্জরে খামুশি বা নীরবতার চাকু। হাদিসে আছে, মান সাক্বাতা ফা হুয়া নাজাহ- যে চুপ রইল, সে মুক্তি পেল।

যে ক্ষুধাকে জয় করতে পেরেছে, সে সহজেই অনেক পাপ থেকে মুক্ত থাকতে পরবে। দুনিয়ায় যত নবী অলি মুনি ঋষি সাধু-সন্ন্যাসী ছিলেন, সবাই ক্ষুধাপেটে থেকে মালিকুল আলমের সঙ্গে বন্ধুত্বের রশি বেঁধেছন। আমাদের নবীজি (সা.) মক্কার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের গুহায় ধ্যানে বসে নূরের জ্যোতি লাভ করেছিলেন। যার কারণে জাবালে হেরা জাবালে নূরে পরিণত হয়েছে। নফস বশীভূত ছাড়া কোনো ইবাদতই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না।

রমজানে এসব গুণ অর্জন করা সহজ হয়ে যায়। এ অর্জন থেকে বঞ্চিত থাকার কারণেই দেখা যায় নামাজির ভিড় বেড়েছে ঠিকই, মুত্তাকি দিন দিন কমে যাচ্ছে।

রোজাদারের কমতি নেই; কিন্তু হারাম সম্পদ কামাই বন্ধ হয়নি। রোজা অবস্থায় হালাল খাবার থেকে বিরত রেখে আল্লাহ প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন যেন সারা বছর হারাম কামাই থেকে, হারাম খাবার থেকে বেঁচে থাকি। আর বেহুদা কথাবার্তা, ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে এর ইঙ্গিতই দিয়েছেন যাতে আমরা সবসময় ফেতনা-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকি। আল্লাহ আমাদের রমজানের অসিলায় মুত্তাকি হওয়ার তৌফিক দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ