বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

রোগাক্রান্ত নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসার প্রয়োজন

রোগাক্রান্ত নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসার প্রয়োজন

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:চোর-ডাকাতের উৎপাত ও চিকিৎসক সংঙ্কটসহ নানা সমস্যায় ভোগছে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়া চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকার কারণে হাসপাতালের ভেতরে রাতের বেলা বাড়ে বখাটেদের উৎপাত। এতে সিমাহীন দূর্ভোগে রয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাসপাতাল কোয়ার্টারে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরির ঘটনা। গত তিনমাসে হাসপাতাল কোয়ার্টারের দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, হাসপাতালের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের জন্য কাজ শুরু হলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে কাজ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশ্ববর্তী বাসিন্দা এনাম আহমেদ চৌধুরী জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে হবিগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ফলে একমাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স। এছাড়া বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার অনেক মানুষও এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপরই নির্ভরশীল।

এত বিশাল জনগোষ্টির চাহিদার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে কলমে ৫০ শয্যা হলেও চিকিৎসা চলছে ৩১ শয্যায়। আবারও এতেও রয়েছে নানা সমস্যা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি নিয়ে শুধু রোগীরাই দূর্ভোগে নন। পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার কারণে দূর্ভোগে রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। হাসপাতালটিতে ২২ জনের স্থলে কর্মরত রয়েছে মাত্র পাঁচজন ডাক্তার। এর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে এবং বাঁকি দুইজন ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বায়িত্ব পালন করেন। আর সেবা দেয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক নার্সের প্রয়োজন থাকলে সেখানে রয়েছেন মাত্র ১২ জন। আর স্টাফ সংঙ্কটের কথাতো বলাই বাহুল্য। যতেষ্ট পরিমাণ স্টাফ না থাকার কারণে ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি।

এদিকে, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় সন্ধ্যা হলেই সেখানে নামে চুর ও বখাটেদের উৎপাত। এতে সিমাহীন দূর্ভোগে রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ রোগী ও তাদের স্বজনরা। ইতোমধ্যে হাসপাতাল কোয়ার্টারে দুটি চুরির ঘটনা ঘটছে। গত ঈদে হাসপাতাল কোয়ার্টারে ডা. নাজিয়া তাসনিমের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় চুরেরা বাসায় থাকা নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে সিনিয়র স্টাফ শারমিন’র বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সময় ঘটছে ছিনতাইযের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনাও। এত রিতিমতো নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে হাসপাতালে কর্মরত সকল ডাক্তার ও স্টাফরা।

দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রমজান মাসে হাসপাতালে বাউন্ডারি নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু তখনও বাঁধে অন্য এক বিপত্তি। হাসপাতালের সামনের জমির মালিক জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে বন্ধ করে দিতে হয় হাসপাতালের বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ। কবে নাগাদ এ জটিলতার অবসান হতে পারে তার জানা নেই কারোরই।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের বাউন্ডারি নির্মাণ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান সাইদুর রহমান এন্টারপ্রাইজের সাব কন্টাকটার মো. আলী হোসেন বলেন- ‘আমি কাজ করতে শুরু করলেই হাসপাতালের সামনের জমির মালিক এনাম আহমেদ চৌধুরী আমাকে বাঁধা দেন। এ সময় আমি কাজ চালিয়ে গেলে তিনি আমার উপর উত্তেজিত হন এবং অকত্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা আমাকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। পরবর্তীতে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেমা তুজ জহুরা বলেন- ‘নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারসহ বিভিন্ন স্টাফ সংঙ্কট রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকার কারণে সন্ধ্যার পরই এখানে বখাটেরা আড্ডা বসায়। আমরা এর প্রতিবাদ করলে আমাদেরকেও লাঞ্চিত করে বখাটেরা। এছাড়া হাসপাতাল কোয়ার্টারে চুরির ঘটনাও ঘটেছে।’

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন- ‘বিভিন্ন সমস্যায় জরজড়িত নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও চিকিৎসা চলছে ৩১ শয্যায়। ২২ জন ডাক্তারের ¯’লে কর্মরত রয়েছে মাত্র পাঁচজন ডাক্তার। এর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে এবং বাঁকি দুইজন ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বায়িত্ব পালন করেন। যার ফলে এত বিশাল সংখ্যাক রোগীর চিকিৎসা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া প্রয়োজন সংখ্যাক স্টাফ না থাকার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ খুবই নোংরা রয়েছে।’

তিনি বলেন- ‘বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সব চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকা। যার ফলে সন্ধ্যা হলেই হাসপাতালের ভেতরে বখাটেদের উৎপাত বৃদ্ধি পায়। হাসপাতাল কোয়র্টারের ঘটছে চুরির ঘটনাও।’

তিনি আরও বলেন- ‘বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ আটকে আছে।’ দ্রুত এটি নির্মাণ না করলে অরও বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন- ‘হাসপাতালের স্টাফ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের সামনের জমির মালিক এনাম আহমেদ চৌধুরী আদালতে মামলা করায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে আদালত আমাদের কাছে এর জবাব চেয়েছে আমরাও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতের কাছে পেশ করেছি। আশা করছি দ্রুত সকল সমস্যা সমাধান হবে।’

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের পাশের কয়েকজন জমির মালিক জানান- কয়েকটি গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণ করে পেলেছেন। এখন হাসপাতালের দেয়াল নির্মাণ করলে তিনি ঘর ভেঙে রাস্তার জায়গা ছাড়তে হবেন। তাই তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে মামলার বাদি এনাম আহমেদ চৌধুরীকে ফোন করলে এ ব্যাপারে তিনি কথা বলতে রাজি নন বলে কল কেটে দেন। এরপর বারবার কল করলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ