মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির নরম সুর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির নরম সুর

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : ‘নিরাপদ প্রত্যাবাসনের’ জন্য জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করার এখন উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। খবর বিবিসির।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সফরকারী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বৈঠকের পর সু চির অফিস থেকে ওই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়- ‘শরণার্থীরা’ যাতে ‘নির্ভয়ে’ রাখাইনে ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করা তার সরকারের পক্ষে সুবিধা হবে যদি বিদেশিদের এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা যায়।

সু চি বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে একটি চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলের সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে করে সু চি তার বিবৃতিতে এমন কথাও বলেছেন, ‘এটি একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা…গণতান্ত্রিক মিয়ানমারে সহিংসতার কোনো স্থান নেই…যারা ঘরবাড়ি হারিয়ে পালিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের জোর চেষ্টা করতে হবে, সহিংসতার মূল কারণগুলো দুর করতে হবে।’

মিয়ানমার সরকার এবং অং সান সু চি নিজেও এর আগে জাতিসংঘকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ঘোরবিরোধী ছিলেন।

ফলে এই বিবৃতিকে অং সান সুচির অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন হিসাবে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরকারী কূটনীতিকরা সু চি এবং মিয়ানমারের সেনা প্রধানকে ‘স্পষ্ট করে বলেছেন’ রাখাইনে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনাগুলোর ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্ত না করণে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিসি) বিচারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এর আগে জাতিসংঘের একাধিক কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর ‘কপি-বুক’ জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছে।

গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ এবং হত্যার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সেনা-কর্মকর্তাদের আইসিসিতে বিচার হলে সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করা যায়।

জাতিসংঘের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে এবং তার বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে একটি চুক্তি হতে পারে। তবে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতেই কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বিশ্বাস করেন – সেনাবাহিনী এখনও মিয়ানমারে ক্ষমতার উৎস এবং সে দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারাই নেন।

এছাড়া, ফেরার শর্ত হিসেবে নাগরিকত্বের যে দাবি রোহিঙ্গারা করছেন সে ব্যাপারে প্রতিশ্রুতির কোনো ইঙ্গিত মিয়ানমার এখনো দেয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ