শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারি স্থাপনা বানাচ্ছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারি স্থাপনা বানাচ্ছে মিয়ানমার

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতি ডেস্ক:রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে সরকারি স্থাপনা গড়ে তুলেছে মিয়ানমার সরকার। পুলিশ ব্যারাকসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার মাধ্যমে এসব এলাকাকে পুরোপুরি সরকারি অবকাঠামোতে রূপান্তর করা হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কয়েক দিন আগে বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দলকে মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় উত্তর রাখাইনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখানো হয়। তাদের মধ্যে বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেদক জোনাথন হেডও ছিলেন। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া ছবিতে তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের অন্তত চারটি গ্রামে নতুন নিরাপত্তা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যেসব জায়গায় এক সময় রোহিঙ্গাদের গ্রাম থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

রাখাইনে বহিরাগত কাউকে ঢুকার অনুমতি দেয়া হয় না। সাংবাদিকদের ওই দলটিকে ব্যাপক সামরিক প্রহরার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। পুলিশের অনুমতি ছাড়া কারো সাক্ষাৎকার বা কোনো ভিডিও করার সুযোগ ছিল না বলে জানান জোনাথন হেড।

বিবিসির ওই প্রতিবেদনে জোনাথন হেড বলেন, রাখাইনের হ্লা পো কং ট্রানজিট ক্যাম্পে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তদের নিয়ে গিয়েছিল । মিয়ানমার সরকারের ভাষ্যমতে সেখানে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সহিংসতার পর দুইটি গুঁড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গা গ্রাম হও রি তু লার এবং থার জেই কোনে’র পাশে ওই ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কেউ ফিরলে এই ক্যাম্পে তাদের দুই মাস রেখে পরে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা সরকারিভাবে বলা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আগে শেষ হওয়া এই ক্যাম্পের এখন জঘন্য অবস্থা। গণশৌচাগারগুলো ভেঙে পড়েছে।

জোনাথন হেড ওই ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সো সোয়ে অংয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, গ্রাম দুটো কেন তাদের নিশ্চিহ্ন করতে হল। উত্তরে সো সোয়ে অং বলেন, কোনো গ্রাম ধ্বংস করা হয়নি। কিন্তু জনাথন হেড স্যাটেলাইট ইমেজের কথা তুললে মিয়ানমারের ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি মাত্র কিছুদিন হল এই দায়িত্বে এসেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গা গ্রামের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে। তারা ধারণা করছে, ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত কমপক্ষে ৪০ ভাগ রোহিঙ্গা গ্রাম সম্পূর্ণরুপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এটাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সেনাবাহিনীর ওই বড় আকারের হত্যাকে অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।

গত কয়েকদিন আগে ফর্টিফাই রাইটস নামে আন্তর্জাতিক একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্রের মুখে রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি’ পরিচয়পত্র নিতে বাধ্য করছে । এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ কেড়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাই বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিলেন।

২০১৬ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের একটি সীমান্তচৌকিতে জঙ্গি হামলা হলে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নয়জন সদস্য নিহত হন। তারপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। ওই সময়ে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালানো হয়। ওই সময়ে ৭৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

তারপর ২০১৭ সালের আগস্টে একইভাবে মিয়ানমারের সীমান্তচৌকিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হন। এ ঘটনার জের ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায় সেনারা। তাদের হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, নারীদের ধর্ষণসহ নানা ধরনের নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালায়।

জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে থাকে। ওই সময়ে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়। সে সময় ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ