মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

শাবি ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে গার্ডকে মারধর করার অভিযোগ

শাবি ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে গার্ডকে মারধর করার অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গার্ডকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অসামাজিক কাজে বাধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ হোসেন রনি নামে এক নেতা গার্ডকে মারধর করেন। এনিয়ে রনি’র বিরুদ্ধে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভূক্তভোগী গার্ড লিটন দেব।

অভিযোগে লিটন দেব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের পাশ্ববর্তী গাজী কালুর টিলায় ডিউটি করার সময় আপত্তিকর অবস্থায় বহিরাগত এক যুগলকে পান তিনি। তাদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে তারা নিজেদেরকে ওসমানি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন এবং ছাত্রলীগ নেতা রনি’র পরিচিত বলে দাবি করেন। এসময় তারা রনিকে কল দিয়ে শহিদ মিনারের সামনে নিয়ে আসে এবং রনি এসে তাদেরকে ছেড়ে দিতে বলে। তাদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে এ সময় রনি গার্ডকে চড় থাপ্পড় দেন, মাথায় আঘাত করেন ও বুকে ঘুষি মারেন। মারধরের কথা প্রক্টরকে জানালে ঐ গার্ডের চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকিও প্রদান করেন রনি। এ সময় রনি ঐ যুগলকে অটোরিকশায় তুলে দেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, কানে আঘাত পাওয়ার ফলে এখন তার কান থেকে পানি পড়ছে এবং বাম কানে শুনতে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে বুকে এলোপাথাড়ি ঘুষির ফলে তিনি এখন বুকে ব্যথা পান। ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি অস্বীকার করে আসিফ হোসেন রনি বলেন, ঐ গার্ডের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে অনেককে পুলিশ এবং প্রক্টরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। ঐ দিন গার্ড মেয়েটির সাথে বাজে ব্যবহার করেছিল যার কারণে তাকে আমি একটি চড় মারি। তার দায়িত্ব হচ্ছে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ করা, কোনো ছেলে মেয়ে হাত ধরে বসে থাকলে তা দেখা তার দায়িত্ব নয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কর্তৃক একজন গার্ডকে মারধর করা খুবই নিন্দনীয় কাজ। বিষয়টি আমি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্যারকে জানিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক সামিউল ইসলামকে প্রধান করে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল ও মো. শাকিল ভূঁইয়া। কমিটিকে অতিদ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নৃবিজ্ঞান বিভাগ ও আইপিই বিভাগের সংঘর্ষে এক সহকারী প্রক্টরকে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছিল রনি’র বিরুদ্ধে। এজন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ