বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:০০ অপরাহ্ন

শাবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

শাবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

নিউজটি শেয়ার করুন

শাবি প্রতিনিধি :: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন শেষে এক সমাবেশে এই দাবি করেন তারা। গত ৩ জুলাই পঞ্চগড় জেলায় শ্বশুরবাড়িতে নিজ কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মৃত্তিকার মরদেহ।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি মৌনমিছিল ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই সাথে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক উদ্দিন, সাবেক শিক্ষার্থী রাশেদুল হক, আকতারুজ্জামান রিন্টু প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা রহস্যজনক এ মৃত্যুর সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন। এসময় মৃত্তিকা’র মৃত্যুর জন্য তার স্বামীর নির্যাতন ও পরকীয়া জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষণ করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা রহমানের ব্যাক্তিত্বের (সংস্কৃতিকর্মী) সাথে তার রহস্যজনক মৃত্যু কোনভাবেই মেলানো যায় না। ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৩-০৪ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জুবেরীর সাথে তাদের বিয়ে হয়। জুবেরী পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলায় একটি ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সমাবেশে বক্তারা জানান, গত দেড় বছর যাবত জুবেরী মৃত্তিকাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করতো বলো তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।

শিক্ষার্থী আনিকা তাসনিম বলেন, আব্দুল্লাহ জুবেরির পরকীয়া ছিল বলে মৃত্তিকা আমাদের জানিয়েছিলো। শারীরিকভাবে নির্যাতনের কারণে মৃত্তিকা পরিবারের কাছে আসলেও তাকে সহায়তা করা হয়নি। এমনকি মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও স্বামীর নির্যাতনের কারণে নিজ বাড়িতে চলে এসেছিল মৃত্তিকা। পরবর্তীতে পরিবার থেকে সহায়তা না পেয়ে সে আবার স্বামীর বাড়ি ফিরে যায় এবং তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ রহস্যজনক মৃত্যুর পরও উভয় পরিবারের নিরবতা তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি উঠে আসে। উক্ত ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও নিজ পরিবার এবং শশুর বাড়ির মানুষেরা পোস্টমর্টেম ছাড়াই মৃতদেহ দাফন করে। মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্তিকার আত্মহত্যার প্ররোচণাদান ও নির্যাতনকারীর বিচার দাবি করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ