বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

শাহজালাল দরগাহ মসজিদে এককাতারে ধনী-গরীবের ইফতার

শাহজালাল দরগাহ মসজিদে এককাতারে ধনী-গরীবের ইফতার

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাহফুজুল ইসলাম নাঈম। দরগাহ মহল্লার রাজাগলিতে তার বাসা। বাসায় মা-বাবার অনুমতি নিয়ে ইফতারে মুসল্লিদের খেদমতের জন্য প্রতিদিন দরগাহ মসজিদে আসে। মসজিদের খাদেমদের সাথে ইফতারের প্রস্তুতিতে সাহায্য করে খুব আনন্দিত হয় নাঈম।

সম্প্রতি আসরের নামাযের পর মসজিদের তৃতীয় তলায় গেলে দেখা যায় প্লেটে প্লেটে নেওয়া হচ্ছে খিচুরী। গ্লাসে ঠান্ডা পানি। সারি সারি করে রাখা হচ্ছে এসব।

সরেজমিনে হযরত শাহজালাল রহ. দরগাহ মসজিদে গিয়ে দেখা যায় মুসল্লিদের জন্য ইফতারের প্রস্তুতি করছেন ৫/৭জন খাদেম। মসজিদের খাদেম মাওলানা আবদুর রহিম ও হাফেয জসিম উদ্দীনের সাথে কথা হলে তারা জানান, ওলিকুল শিরোমনী হযরত শাহজালাল রহ. মাজার মসজিদে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই শ’ মুসলি¬রা কাতারবন্দি হয়ে ইফতার করেন।

২৫ বছর থেকে মসজিদের খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন সুবিদবাজারের নূরানী ১২১/১’র বাসিন্দা মাহমুদুর রশীদ’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, দীর্ঘ ২ যুগ ধরেই মসজিদে ইফতার করি। অন্যরকম এক অনুভূতির পরশ পাই।

ইফতারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আগত যিয়ারতকারী, মান্নতকারী এবং এলাকার বিশেষ কিছু মুসল্লিগণ। এখানকার ইফতারসামগ্রী দরগাহ বাজারের নামিদামী রেস্টুরেন্ট আর মহল্লার বিভিন্ন লোকজনের বাসা-বাড়ী থেকে আসে। তাছাড়া মাজারকেন্দ্রীক মসজিদ হওয়াতে ভক্ত আর মান্নতকারীদের নজরানাও আসে প্রতিনিয়ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ইফতারী দরগাহ মহল্লা, রাজারগলি এলাকা, পীর মহল¬া ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে।

শুধু দরগাহ মসজিদ নয়, নগরীর বন্দরবাজার জামে মসজিদ, আবু তোরাব জামে মসজিদ, নাইওরপুল জামে মসজিদ, সোবহানীঘাট জামে মসজিদ, ছড়ারপার জামে মসজিদ, শিবগঞ্জবাজার জামে মসজিদসহ প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মসজিদে সব ভেদাভেদ ভুরে গিয়ে একসাথে অনেক মুসল্লিদের ইফতার গ্রহণের দৃশ্যটা সত্যিই আমাদেরকে খেলাফতে রাশেদার সেই সোনালী যুগকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভ্রাতৃত্ব আর সৌহাদ্যপূর্ণ এই দৃশ্যটা পবিত্র রমজান মাসেরই একটি অন্যতম বৈশিষ্ট।

শিবগঞ্জবাজার জামে মসজিদে ইফতার বন্ঠনকারী বলেন, আমি গত ২-৩ বছর যাবত বাসায় ইফতার করিনা। এই মসজিদে ইফতার বন্ঠন করে দেই। কারণ রোযাদারদের খেদমত করলে জান্নাত পাওয়া সহজ হবে। আল্লাহর দরবারে তাদের ওসিলায় আমার রােজা কবুল হবে এই আশায় এখানে রোজাদারদের খেদমত করে আসছি। মসজিদগুলোতে ইফতার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে খিচুরি, খেজুর, চানাবুট, পেঁয়াজু, জিলাপি, সমুচা, আলুর চপ, শরবত ইত্যাদি।

ইফতার করতে আসা তরকারি বিক্রেতা ওলি মিয়া জানান, আমি প্রতিদিন নিজের ইফতারটা নিয়ে মসজিদে চলে আসি। কারণ মুসলি¬দের সাথে ইফতার করার স্বাদই আলাদা।

ইফতার সামনে নিয়ে বান্দা খোদার দরবারে যে দোয়া করবে মহান আল¬াহ তাআলা তা অব্যশই কবুল করে থাকেন। তাই মুসলি¬রা ইফতার সামনে দোয়া-দরুদ পড়ছেন। কেউ করছেন ইফতারের ক্ষণ গণনা। রমজানে নগরীর প্রতিটি মসজিদে মুসলি¬দের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়।

এব্যাপারে হযরত শাহজালাল রহ. মাজার মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী মুফতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, মসজিদ কমিটিই প্রতি রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য ইফতারের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া অনেক মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তষ্টিলাভের জন্য মুসলি¬দের জন্য ইফতার পাঠিয়ে থাকেন। এখানে ধনী-গরীব সবাই এককাতারে বসে ইফতার করেন। যা সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ