সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

শোলাকিয়ায় ড্রোন ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্নাইপার রাইফেল

শোলাকিয়ায় ড্রোন ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্নাইপার রাইফেল

সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:কিশোরগঞ্জের শহরের উপকন্ঠে নরসুন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত উপমহাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাব জানিয়েছে, ২০১৬ সালের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিককালে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাসহ দেশের অভ্যন্তরে সংঘঠিত জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলো মাথায় রেখে মাঠ ও মাঠের আশপাশের এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে চার স্তরের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। আর এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে থাকছে ড্রোন ক্যামেরা। তবে এবারই প্রথমবারের মতো এলিট ফোর্স র‌্যাব স্নাইপার রাইফেল নিয়ে অবস্থান নেবে।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাব চার স্তরের এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করে অবহিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুসল্লিরা।

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উৎযাপন করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯২তম ঈদুল ফিতরের জামাত।

জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ঈমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায়ে অধিক সওয়াবের আশায় এ মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতে প্রতি বছর দেশ বিদেশের তিন লাখেরও বেশি মুসল্লির সমাগম ঘটে থাকে।

এবারের ১৯২তম ঈদুল ফিতরের জামাত উপলক্ষ্যে মাঠের চারপাশের দেয়ালে পরেছে নতুন রংয়ের প্রলেপ। মাঠের ভিতরের খানাখন্দ বালি দিয়ে ভরাট করে ইতিমধ্যে লাইনকাটা সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা বসানো, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, আলোকসজ্জা, ভুগর্ভস্থ মাইক্রোফোন সংযোগ পরীক্ষাকরণ ইত্যাদির কাজ শেষ হয়েছে।

জামাত উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন কিশোরগঞ্জ আসা-যাওয়া করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে দেশের ঐতিহাসিক ঈদগাহ শোলাকিয়া ময়দানের প্রবেশ পথের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সবুজবাগ সংযোগ সড়কে তল্লাশির সময় পুলিশের ওপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল আনছারুল হক, জহিরুল ইসলাম এবং সবুজবাগ এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক ও আবির হোসেন নামের এক জঙ্গি ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এছাড়া ১২ পুলিশ সদস্য এবং ৪ মুসল্লি আহত হয়।

জনশ্রুতি আছে প্রায় ৭ একর আয়তনের এই মাঠে একবার ২৬৫ টি কাতরের প্রতিটিতে ৫০০ জন করে মোট সোয়ালাখেরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ ঈদগাহ ময়দানটিকে সোয়ালাখিয়া নামে ডাকা শুরু হয়। কিন্তু কালক্রমে উচ্চারণ বিবর্তণের কারণে শোলাকিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, এবার ঈদগাহ ময়দান, আশপাশ এলাকা এমনকি শহরজুড়ে চারস্তরের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১২০০ পুলিশ, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ১০০ র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে ড্রোন ক্যামেরা।

এছাড়া, বোম ডিসপোজাল টিম, সুইপিং টিম থাকবে। মাইন মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা ঈদগাহ ময়দান সুইপিং করা হবে। আর এ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও অংশ নেবেন। তবে এবার ঈদগাহ এলাকায় জায়নামায ছাড়া অন্যকিছু বহন করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাশরুকুর।

র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন জানান, মাঠের চারপাশে ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। দূরবর্তী কোনো স্থানে যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চোখে পড়ে সেক্ষেত্রে ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থান নেয়া স্নাইপাররা স্নাইপিং রাইফেল দিয়ে ব্যবস্থা নেবে। সবচেয়ে খারাপ ইনসিডেন্ট হতে পারে এমন ধারণা মাথায় নিয়েই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি মনে করছেন না বলেও জানান তিনি।

রোববার দুপুরে সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী মিডিয়াকর্মীদের মুখোমুখি হন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে শোলাকিয়া মাঠের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা আর সাম্প্রতিককালে দেশে-বিদেশে জঙ্গি হামলার বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে নিয়ে ঈদুল ফিতরের জামাতকে নির্বিঘ্ন করার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঈদগাহ জামাতকে মুসল্লিবান্ধব করতে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ