মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

সংখ্যায় কম হলেও ঝড় তুলতে চান

সংখ্যায় কম হলেও ঝড় তুলতে চান

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:সংরক্ষিত একসহ মোট ছয় এমপি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করবে। সংখ্যায় কম হলেও সংসদে ঝড় তুলতে চান তারা। সংসদের ভেতরে এবং বাইরে যুগপৎ আন্দোলন করবেন।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান। সরকারের নানা দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে সোচ্চার থাকবেন বিএনপির ৬ এমপি।

পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজের প্রতি সংহতি জানাতে কার্পণ্য করবে না তারা। সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়টি স্পিকারের সহযোগিতার ওপর অনেকটা নির্ভর করবে বলেও মনে করেন তারা। বিএনপির এমপিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমনটাই জানান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যানারে ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে পাঁচজন শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন। বগুড়া থেকে নির্বাচিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকায় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যে ওই আসনের উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

এতে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা আছে দলটির। এছাড়া একটিমাত্র সংরক্ষিত নারী আসনে ইতিমধ্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শিগগিরই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

৫ এমপি শপথ নেয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় সীমিত সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের অংশ হিসেবে শপথ গ্রহণের ‘সিদ্ধান্ত দিয়েছেন’ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। সেজন্যই আমরা সংসদে গিয়েছি।

সূত্র জানায়, দলটির নেতাকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায়ই তারা সংসদে গিয়েছে। তবে যেভাবেই তারা সংসদে যাক বর্তমানে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবেই তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু বেতন-ভাতা আর আর্থিক সুবিধার জন্য তারা সংসদে যায়নি- এটা তাদেরই প্রমাণ করতে হবে।

সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হলে নেতাকর্মীদের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হতে পারে। সংসদে দলীয় এমপিরা কতটা ভূমিকা রাখতে পারল তা নিয়ে চিন্তিত নয় নীতিনির্ধারকরা। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সংসদের বাইরেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সংসদে যদি তারা কিছু করতে পারে সেটা হবে বাড়তি পাওয়া।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের এমন ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে চান দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। সংসদে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে চান তারা।

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হারুনুর রশীদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর জনগণের ভোটে এ সংসদ গঠিত হয়নি তা দেশে-বিদেশে সবাই জানে। তারপরও আমরা সংসদে গিয়েছি। দ্রুত সংসদ ভেঙে দিয়ে জনগণের সংসদ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতেই আমরা শপথ নিয়েছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পূর্বশর্ত হচ্ছে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি।

এসব দাবিতে আমরা সংসদে সোচ্চার থাকব। তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে।

এসব বিষয়ে সংসদে তুল ধরব। চেষ্টা করব, তবে কতটা পারব জানি না। এক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটা দেখতে হবে। হারুন বলেন, আসছে অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ অধিবেশনে বাজেট পেশ করা হবে।

বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের খারাপ কাজের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কোনো কাজ হলে তা অবশ্যই সমর্থন জানানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, সংখ্যায় কম হলেও সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে দল থেকে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমি চারবারের নির্বাচিত এমপি। সংসদে যারা আছেন তাদের প্রায় সবাই নতুন।

সংসদের অনেক কিছু বুঝতে তাদের সময় লাগবে। দলীয় ও সামগ্রিক বিষয়গুলো আমরা একত্রে বসেই করব। পলিসি সংক্রান্ত বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজন মনে হলে দলের হাইকমান্ডেরও পরামর্শ নেয়া হবে। সব মিলে আমরা সংখ্যায় কম হলেও সংসদে একটা ঝড় তুলতে চাই।

ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান বলেন, চেয়ারপারসনের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমাদের কর্মসূচিগুলো চলছে। সেগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় আমাদের নীতিনির্ধারকরা বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে জানাচ্ছেন।

এর বাইরে বর্তমানে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। এই দাবিগুলোই আমরা সংসদে গিয়ে তুলে ধরতে চাই। সংখ্যায় কম হলেও এসব দাবিতে আমরা সোচ্চার থাকব। তাতে কি হবে বা কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনেও আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে আমরা এর জোরালো প্রতিবাদ জানাব। সর্বোপরি সংখ্যায় কম হলেও আমাদের ভয়েসটা জোরালোভাবে জাতিকে জানাতে চাই।

জানতে চাইলে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হতে যাওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা  বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই বললেই চলে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া আজ কারাগারে। সংসদে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। দেশে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলব।

তিনি বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে দল আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে তা নিষ্ঠা, সততার সঙ্গে পালন করতে সচেষ্ট থাকব। একই কথা বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলামও। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে সারা জাতি ঐক্যবদ্ধ। আমরা সংসদেও এ বিষয়টি তুলে ধরতে চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ