রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমেনি: টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমেনি: টিআইবি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি এ কথা জানায়।

রোববার রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে তাদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

জনপ্রশাসনের নিয়োগ, পদোন্নতি, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা), চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

টিআইবির কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মহুয়া রউফ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবের কারণে জাতীয় শুদ্ধাচারের কোনো কোনো কৌশলের চর্চা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। প্রশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, শুদ্ধাচার কৌশলে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের মধ্যে পাঁচটি কৌশলের চর্চা সন্তোষজনক। তিনটি কৌশলের চর্চা এখনও শুরুই হয়নি।

‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে যোগ্যতা নয়, ক্ষমতাসীনদের পছন্দ প্রাধান্য পাচ্ছে।’

মহুয়া রউফ আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনের উপসচিব বা এর ওপরের পদে শূন্যপদের অতিরিক্ত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার লঙ্ঘনও হয়।

তিনি বলেন, পদোন্নতি বিধিমালায় উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পদোন্নতিতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে অধিকতর প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। কোন গোয়েন্দা সংস্থা কী বিষয়ে কখন কী প্রতিবেদন দিচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানার সুযোগ নেই।

মহুয়া রউফ বলেন, গত নির্বাচনের আগে ৫৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ। ডিসি পদায়নে গোয়েন্দা রিপোর্ট একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

‘এসব প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলবিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কিনা, তা বিবেচনায় আনা হচ্ছে।’

তবে প্রতিবেদনে শুদ্ধাচার কৌশলের কিছু কিছু অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরা হয় গবেষণায়।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচারের অবস্থাটি মোটামুটি মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি আছে। কিছু কিছু উদ্যোগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। আবার কিছু কিছু উদ্যোগ শুরুই হয়নি।

সরকারি কর্মচারী আইনে গ্রেফতার সম্পর্কিত একটি ধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই ধারাটি দুর্নীতি প্রতিরোধে বাধার সৃষ্টি করবে। তাই তারা এ ধারাটি বাতিল করে আইনের সংশোধন চান।

অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভিন হাসান, টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ