শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

সাংবাদিকতার বিকাশে সিলেট প্রেসক্লাবের ভূমিকা অনন্য: হাসান শাহরিয়ার

সাংবাদিকতার বিকাশে সিলেট প্রেসক্লাবের ভূমিকা অনন্য: হাসান শাহরিয়ার

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট ::কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক সভাপতি প্রখ্যাত সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার বলেছেন, সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি এই পেশার বিকাশ সাধনে সিলেট প্রেসক্লাবের ভূমিকাও অনন্য। সিলেট প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিকগণ স্মৃতিতে ভাস্বর; তাঁরা ছিলেন আলোকবর্তিকা।

তিনি বলেন, তাঁদের কীর্তি ছিল কর্মের চেয়েও মহান। তাঁদের চিন্তা চেতনা ও অনুসৃত পথই সিলেট প্রেসক্লাবের প্রেরণার উৎস। আজ তাঁদের কথা স্মরণ করে, তাঁদের অঙ্গীকার, পেশার মান উন্নয়নে আপোষহীন সংগ্রাম, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা, সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে সিলেট প্রেসক্লাব ঋণের ভার কিছুটা হলেও লাঘব করেছে।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রণীত গ্রন্থ অনুভবে-অনুরাগে’র প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের প্রখ্যাত এ সাংবাদিক বর্তমান সময়ে সংবাদপত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী কিংবা গৃহবধূ সম্পাদক হয়ে সাংবাদিকদের উপর ছড়ি ঘুরচ্ছেন। অর্থের বলে সম্পাদক হয়ে যাচ্ছেন পত্রিকার মালিকেরা। লিখতে বললে কলম ভেঙে যাবে, কিন্তু তারাই তো নির্ধারণ করছেন তাদের পত্রিকার নিয়ম-নীতি। সম্পাদক হওয়ার জন্য সাংবাদিকতায় নূন্যতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন এই দাবি সাংবাদিক ইউনিয়ন বহু আগেই করেছে। কিন্তু রহস্যময় কারণে তা আইনে রূপান্তরিত হয়নি।

তিনি আরো বলেন, যুগে যুগে সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা। তথ্য অধিকার আইন ও নিন্দিত অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের পাশাপাশি অবস্থান নিশ্চিত করে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আইনটি বলবৎ হলে সংবিধানে প্রদত্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা বিঘ্নিত হবে।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশে সুষ্ঠু সাংবাদিকতা অপরিহার্য। শুধু প্রচার সংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বণ্টন এবং কাগজ আমদানির উপর ট্যাক্স কমালেই এ শিল্পে অনেক উন্নতি সাধিত হবে। খরচ কমলে পত্রিকার প্রচার সংখ্যা যেমন বাড়ানো যাবে, তেমনি পত্রিকার দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেও সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে। শুধু সাংবাদিকদের দোষারোপ না করে সুষ্ঠু সাংবাদিকতার পরিবেশ সৃষ্টি এবং সর্বত্র ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করে নিশ্চিত করতে হবে সাংবাদিকদের নূন্যতম বেতন ও ভাতা। সম্পাদক হতে হলে সাংবাদিকতায় নূন্যতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রাখতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাদার হতে সহায়তা করুন, তাদের দলীয় ক্যাডার বা সরকারের তল্পিবাহক বানানোর চেষ্টা করবেন না। দেখবেন অচিরেই অবস্থা পাল্টে যাবে, ‘সাংঘাতিক’দের সংখ্যা কমে যাবে। বাংলাদেশের মিডিয়া যথেষ্ট স্বাধীন। তবে সাংবাদিকের স্বাধীনতা নেই, আছে মালিকের স্বাধীনতা। সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রকাশ করাই সাংবাদিকের স্বাধীনতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ