বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

সাবধান! সিলেটে সক্রিয় অপহরণ পার্টি

সাবধান! সিলেটে সক্রিয় অপহরণ পার্টি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক: সাবধান! সিলেটজুড়ে সক্রিয় অপহরণ পার্টি। বিনা কারণে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। উলঙ্গ করে ইয়াবা সামনে দিয়ে ছবি তুলছে। নারীদের এনেও ছবি ধারণ করে মোবাইল ফোনে। এরপর চায় মুক্তিপণ। আর মুক্তিপণ না দিলে অকথ্য নির্যাতন করে অপহৃতের ওপর। এ রকম কয়েকটি ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছে সিলেটে। সম্প্রতি সময়ে সিলেটের জিন্দাবাজারের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড় চলছে।
নির্যাতনের শিকার আবদুল আহাদ নামের ওই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত অপহরণকারী চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আবদুল আহাদ জিন্দাবাজারের আরবি কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি রোগী দেখতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। জল্লারপাড় এলাকা পাড়ি দেওয়ার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা থামে তার সামনে। তিনজন যুবক সিএনজি থেকে নেমেই জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তার চোখ বন্ধ করে রাখে। প্রায় আধাঘণ্টা পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নির্জন এক মাঠে। এই মাঠের চর্তুদিকে টিনশেডের কলোনি। আর মাঝখানে রেখে কয়েক যুবক তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ জানান- কোনো কথা না বলেই ওরা মারধর শুরু করে। হাতে থাকা লাঠি দিয়ে উঠতি বয়সী যুবকরা লাঠি দিয়ে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত। তিনি এ সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

একপর্যায়ে ওই যুবকরা তার সঙ্গে থাকা নগদ ৯ হাজার টাকা, ওয়াল্টন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ফেলে। একপর্যায়ে পাশের কলোনি থেকে অর্ধনগ্ন এক মহিলাকে এনে তার কাছে দাঁড় করিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলে। তার সামনে রাখা হয় গাঁজা ও ইয়াবা। পরে তাকে ওই কলোনির একটি নির্মানাধীন কক্ষে নিয়ে রাখে। আবদুুল আহাদ জানিয়েছেন- মারধরের পর ওরা তার মোবাইল নম্বর দিয়ে ফেইসবুকে একটি ভুয়া আইডি নম্বর খুলে। আর ওই নম্বরে তার ছবি আপলোড করে। একই সঙ্গে তারা নানাজনকে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠায়। এ সময় তার মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করে। দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।

এ সময় তারা আবদুল আহাদের সম্পর্কের মামা জিন্দাবাজারের সিতারা ম্যানশনের বাসিন্দা শাহ আলমকে আবদুল আহাদকে ফোন করায়। এবং একটি বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা নেয়ায়। পরবর্তীতে আহাদের ভাইয়ের কাছে ফোন করে আরো ৫ হাজার আনায় ওই বিকাশ নম্বরে। ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর মদিনা মার্কেটের ফুলকলীর সামনে এনে আহাদকে ছেড়ে দিয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। নির্যাতনে আহাদ গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে শনিবার রাতে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডিতে যে বিকাশ নম্বরে টাকা নেয়া হয়েছে সেই বিকাশ নম্বরের নাম উল্লেখ আছে। বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করা হয়েছে মালিক শিপন আহমদ মানবজমিনকে জানান- আখালিয়া এলাকার সুরমা আবাসিক এলাকার খুলিয়াপাড়ার জননী স্টোরের মালিক তিনি। তার কাছে অনেকেরই টাকা আসে। পরে টাকাগুলো তারা তুলে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার কারা টাকা তুলেছে সে ব্যাপারে তিনি অবগত নয়।

সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম আহমদ  জানিয়েছেন- আহাদকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি। ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ জানিয়েছেন- এ ঘটনার পর আমরা তটস্থ অবস্থায় রয়েছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বলেছে পুলিশকে জানালে আরো ক্ষতি করবে।

এদিকে- সিলেটের করের পাড়ায় হাওলাদারপাড়ায় গত ১৫ দিনের ব্যবধানে একইভাবে আরো দু’টি ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে অজ্ঞাত মহিলা দিয়ে ফোন করে আনা হয় হাওলাদারপাড়া এলাকায়। সেখানে ওই ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এছাড়া আরো কয়েকটি ঘটনাও ঘটে ওই এলাকায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে গত বৃহস্পতিবার রাতে জালালাবাদ থানা পুলিশ অপহরণ চক্রের অন্যতম হোতা মান্না মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। মান্না মিয়া হাওলাদার পাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়- মান্না গ্রেপ্তারের পর ওই এলাকায় থাকা তার সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খোঁজে অভিযান চলছে।

সিলেটের মেজরটিলাস্থ মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকায় কয়েকটি আগে ঘটেছে শিশু অপহরণের ঘটনা। ১১ই নভেম্বর রাতে নয়া মসজিদ এলাকার রাজীবের ছেলে শুভকে অপহরণ করে শ্যামলী আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায় ওই এলাকার রাসেল সহ কয়েকজন বখাটে। এরপর তারা শুভর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তারা ১০ বছরের শিশুকে উলঙ্গ করে ইয়াবা দিয়ে ছবি তুলে। পরে মুক্তিপণের আশ্বাস পেয়ে শুভকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু মুক্তিপণের টাকা না দিয়ে শুভর মা গোলাবী বেগম শাহ্‌পরাণ থানায় রাসেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করলে রাসেল ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে ঘটনার দুইদিন পর রাসেল, হাসান, আমীর আলী ও করিমসহ কয়েকজন এসে রাজীবের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেলকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এ ঘটনার পর পুলিশ রাসেল ও তার সহযোগী হাসান ও আমীর আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহ্‌পরাণ থানার ওসি আক্তার হোসেন।

তথ্য সূত্র : মানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ