সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

‘সিরিয়াল নয়, সিলেটে এবার দেশীয় সুতিতে দিলখোশ তরুণীদের

‘সিরিয়াল নয়, সিলেটে এবার দেশীয় সুতিতে দিলখোশ তরুণীদের

ছবি : এহিয়া আহমেদ

নিউজটি শেয়ার করুন

এম আর টুনু তালুকদার : বিগত বছর ‘বকুল কথা’, সাত ভাই চম্পাসহ অসংখ্য ভারতীয় সিরিয়ালের নাম তরুণীদের পোশাকে ছেয়ে গেলেও এবার কিন্তু দেশীয় সুতিতে মজেছেন তরুণীরা।

রুচি আর চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে তারা ভীড় করছেন সিলেটের অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতে। তবে এবারও চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আরামদায়ক দেশী কাপড়। ঈদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো নয়দিন। তাই তরুণ-তরুণীরা এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বাভাবিক নিয়মেই ঈদ এলে তাদের কেনাকাটার তালিকাটা থাকে অনেক লম্বা। একঘেয়েমি কাটিয়ে তারা পোশাকে একটু ভিন্নতা আনতে চান। এজন্য দৃষ্টিনন্দন আর শৈল্পিক পোশাকের জন্য তারা ঘুরছেন সিলেটের সবগুলো ফ্যাশন হাউসে। বছর ঘুরে একবার আসে সেই দিনটি। তাই নতুন ফ্যাশন ও স্টাইলে ব্যস্ত থাকাটা তরুণদের ঐতিহ্যেরই একটি অংশ। গতকাল রোববার রাতে শহরের অধিকাংশ ফ্যাশন হাউস ঘুরে সেই ব্যস্ততা চোখে পড়েছে।

ফ্যাশন হাউসগুলোও তাদের রুচি এবং চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাইতো শহরের সব ফ্যাশন হাউসে ছিলো সমান ভীড়। দিনে এবং রাতে সমানতালে ছিলো ব্যস্ততা। তবে ফ্যাশন সচেতন তরুণরা বরাবরের মতো এবারো দেশী পোশাককে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। এক্ষেত্রে দামের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ উঠে আসেনি কারো কাছ থেকে। অন্যদিকে আবহাওয়ায় গরমের পাল্লাটা ভারী। যদিও দীর্ঘ গরমের পর টানা কিছুদিন বৃষ্টির দেখা মিলেছে। তারপরও এখন যেহেতু প্রকৃতিতে গরমের দাপট বেশী। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা সুতির পোশাককে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোও তাদের পোশাক ডিজাইনে যেমন ভিন্নতা এনেছে তেমনি গুরুত্ব দিয়েছে সুতির পোশাককে। সালোয়ার কামিজ, টপস, লেহেঙ্গা, গাউন, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পোশাকে আরামদায়ক ফেব্রিক সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে। এজন্য সুতি, লিনেন, অ্যান্ডি, সিল্ক, মসলিন, খাদির পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার দেশী দশে কথা হয় তরুণী ফারিহার সাথে। তিনি ফ্যাশন হাউস অঞ্জনস থেকে কিনেছেন সুতির থ্রি-পিস। গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সুতির কাপড় কিনেছেন। তার ভাষায়- ‘আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বৃষ্টির সময় যতটুকু বৃষ্টিপাত হবার কথা ততটুকু হয়না। কিন্তু গরম ঠিকি হয়। সেই গরমে দেশীয় সুতির পোশাক ছাড়া চলাফেরা করা কঠিন। তাছাড়া ঈদের দিন যতই রোদ থাকুক, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাসায় বেড়াতে যেতে হবে। সময় দিতে হবে বন্ধুদের। পোশাক ক্রয় করার সময় এখন এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে।’ আড়ং থেকে সন্তানদের পোশাক কিনেছেন জাফর খান ও তার স্ত্রী হাফছা খান। কথা হলে তারা বলেন, ‘প্রচন্ড গরম। তাই সন্তানদের জন্য প্রতিবারের মতো এবারো সুতির পোশাক কিনেছি। বিদেশী পোশাক আমাদের দেশের আবহাওয়ার বিষয়টিকে মাথায় রেখে তৈরী হয়না। তাই ঘুরেফিরে প্রশান্তি পাই দেশী পোশাকেই।’ নয়াসড়কের মাহা ফ্যাশন হাউসের পুরোটাই তরুণীদের দখলে। যারাই প্রবেশ করছেন কেউ খালি হাতে ফিরছেন না। সেখান থেকে সুতির জামা কিনেছেন হেলেন নামে এক স্কুল শিক্ষক। তিনি জানান, এখানে দেশী-বিদেশী সব পোশাই আছে। তবে সুতির দিকে নজর সবার।’

মাহা থেকে সুতির শাড়ি কিনেছেন তরুণী লাবণ্য। তিনি জানান, শাড়ীর সাথে আমাদের বাঙালী ঐতিহ্যের আদি সম্পর্ক। আর শাড়ি যদি হয় সুতির তাহলে তো জুড়ি নেই।’ রায়নগর এলাকার তিন বোনের অনলাইন ভিত্তিক দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউন থ্রি-সিস এক্সক্লুসিভ’র স্বত্বাধিকারী ফেরদৌসি আক্তার বলেন, আমাদের এখানে বিদেশী পোশাকের যতই চাহিদা থাকুক, আমরা সাথে দেশী পোশাককেও গুরুত্ব দেই। আর এখন সর্বত্র গরমের দাপট। এজন্য সুতির পোশাককে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ক্রেতারাও দেশী পোশাকের দিকে বেশী ঝুকছেন।’ আরো কয়েকটি ফ্যাশন হাউসে কথা হয় তরুণ-তরুণীদের সাথে। তাদের কন্ঠেও একই সুর। সুতির বিষয়টিকে তারা তাদের পছন্দের প্রথম তালিকায় রেখেছেন।

ঈদে প্রতিটি তরুনের প্রথম পছন্দ পাঞ্জাবী। এর পরেই টি শার্ট, জিন্স, জুতা কিম্বা সার্ট প্যান্ট। তবে ঈদের নামাজের জন্য প্রথম চাওয়া পাঞ্জাবী। কারণ ঈদের দিন আর যাই হোক পাঞ্জাবী ছাড়া অন্য কোন পোষাক একেবারেই বেমানান। তাইতো বরাবরের মতো তরুণরা পছন্দের পাঞ্জাবীর জন্য বেছে নিয়েছেন আড়ং কে। নয়াসড়কের আরো বেশ কিছু ফ্যাশন হাউস জমজমাট ব্যবসা করছেন। সেখানে সবকটি ফ্যাশন হাউসে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অধিকাংশ ফ্যাশন হাউস সাজানো হয়েছে তরুণ-তরুণীদের কথা ভেবেই। কেননা তাদের ক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। সবগুলো ফ্যাশন হাউসে স্যালোয়ার-কামিজ, সট কামিজ এবং চিরচারিত ঐতিহ্য বহনকারী শাড়ী তো আছেই। দরগাগেইট এলাকার আরেক ঐতিহ্যবাহী ফ্যাশন হাউস তুলনা।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা ক্রেতাদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেেছন। তুলনার কর্ণধার জিয়া উদ্দিন জুয়েল জানান, আমরা গরমের বিষয়টিকে মাথায় রেখে পোশাক সাজিয়েছি। আমাদের এখানে টি-সার্ট এবং জিন্স পেন্টের চাহিদা বেশী। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা আরামদায়ক দেশী কাপড় দিয়ে দোকান সাজিয়েছি। শিশুদের পোশাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সুতির পোশাককে।’

ক্রেতাদের পর তরুণ তরুণীদের চাহিদা এবং রুচির বিষয়টি নিয়ে কথা হয় অভিজাত ফ্যাশন হাউস মাহা’র স্বত্বাধিকারী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম’র সাথে। তিনি বলেন, আমরা তরুণ-তরুণীদের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশের পাশাপাশি দেশী পোশাককেও গুরুত্ব দেই। আর এটাই আমাদের বৈশিষ্ট। আমরা সব সময় তাদের রুচি এবং শিল্পবোধকে মাথায় রেখেই মাহা সাজাই। এজন্য আমাদের এখানে সব সময় তাদের ভিড় থাকে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ