বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

সিলেটী বিজ্ঞানীর উদ্ভাবন : যে চাল খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে

সিলেটী বিজ্ঞানীর উদ্ভাবন : যে চাল খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট: ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণের এখন পর্যন্ত কোন সঠিক পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে জিন বিজ্ঞানী এবং ধান গবেষক, বৃৃৃহত্তর সিলেটের কৃতী সন্তান ড. আবেদ চৌধুরী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এমন একটি চালের কথা বলছেন যা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে।

তিনি বলেছেন, সোনালি মিনিকেট চাল; যা খেলে রক্তে শর্করা এবং সুগার কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

দেশদর্পণকে তিনি বলেন, সাদা রঙের চাল বলতে কিছু নেই, সব চালই লাল। তবে মেশিনে ধান থেকে চাল করার সময় চালের লাল অংশ চেছে ফেলে দিয়ে সাদা এবং চিকন করা হয়। এতে অনেক পুষ্টিগুণ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

বাংলাদেশে দিনদিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ কথা মাথায় রেখে তার এই পদ্ধতি আবিষ্কারের চিন্তা শুরু হয়। কী করে এর একটা সমাধান করা যায়। সেই চিন্তা থেকে আবেদ চৌধুরী আবিষ্কার করেন সোনালি মিনিকেট চাল। এটি পরে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি অনুমোদন করে। তার এইচকেজি এগ্রো থেকে প্রস্তুত বিশেষ এই চাল খেলে কার্বোহাইড্রেড এবং সুগার কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, মূলত এই চাল তিনি উদ্ভাবন করেছেন অন্যান্য সাদা বা চিকন চালের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার জন্য। যা মেশাতে হবে মূল চালের সঙ্গে ১৫ শতাংশ করে। এতে ওই সাদা চালের সুগার বাড়ার ক্ষমতা অনেক কমে যায়। কিন্তু সেই চালের সঙ্গে যে সোনালি মিনিকেট মেশানো হয়েছে তা বোঝা যায় না।

এর বাজারমূল্য অন্যান্য চালের মতো। তবে এই চাল তারা সাধারণ বাজারজাত করছেন না তিনি। কেউ চাল কিনতে চাইলে সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তারা ঠিকানা অনুযায়ী তা পৌঁছে দেবেন। এজন্য ০১৭৬৬-৩৭০৪৩৬ এবং ০১৭৬৬-৩৭০৭০৩ নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ড. আবেদ চৌধুরী জানান, তিনি বিলুপ্তপ্রায় ৩শ’ জাতের ধান উদ্ধার করেছেন। সেই ৩শ’ জাতের ধান তিনি একসঙ্গে গবেষণা এলাকা সিলেটের কুলাউড়ায় নিয়মিত চাষ করছেন এবং বছরে ৩ বার সেই ফসল ঘরে তুলছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন।

তিনি অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের মূখ্য বিজ্ঞানী ছিলেন। ড. আবেদ চৌধুরী সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর গ্রামের সন্তান। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। পরে তিনি হাভার্ডসহ বিশ্বের অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে শিক্ষক-গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া শুরু করেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি পুরোপুরি বাংলাদেশে চলে আসেন। কুলাউড়ায় তার পৈতৃক নিবাসে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের যেসব গবেষকের নাম নোবেল পুরস্কারের মনোনয়নের জন্য তালিকায় রয়েছে ড. আবেদ চৌধুরী তাদের একজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ