সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন

সিলেটের শামীম বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদফতরের সম্পূরক চার্জশিট

সিলেটের শামীম বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদফতরের সম্পূরক চার্জশিট

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ ও শাহ আরেফিন টিলায় পরিবেশ ধ্বংস করে সরকারি সম্পদ লুটের মামলায় পাথরখেকো শামীমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের তদন্তকারী কর্মকর্তা। নতুন দেয়া চার্জশিটে যুক্ত হয়েছে আসামিদের অপকর্মের সময়ের জব্দ তালিকা ও তাদের বিগত দিনের নানা অপরাধের তথ্য।

জব্দ তালিকা ও আসামিদের পূর্ব অপরাধের ইতিহাস ছাড়াই শামীমকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৮ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দেয় পরিবেশ অধিদফতর। চার্জশিট দেখে পরিবেশবাদী ও আইনজীবীরা এর ভুলত্রুটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর চার্জশিটের ভুলত্রুটি দূর করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের তদন্ত কর্মকর্তা। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আদালতে চার্জশিটের ওপরে পর্যালোচনার জন্য দিন ধার্য করা আছে।

২০১৭ সালের শুরুর দিকে শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাথর চুরির সময় দফায় দফায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসে শামীম বাহিনী। জেলা প্রশাসন গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির তদন্তে উঠে আসে শামীমসহ তার বাহিনীর নাম। তদন্ত প্রতিবেদনে এসব শ্রমিকের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে পরিবেশ ধ্বংস, পাথর লুট ও শ্রমিক হত্যার ঘটনার নেপথ্যে ৪৭ পাথরখেকোর নাম উঠে আসে।

এতে গডফাদার হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল বাছিরের দুই ছেলে পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আহমেদ ও বিল্লালের নাম উঠে আসে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।৬ নভেম্বর তদন্তে নামে পরিবেশ অধিদফতরের একটি দল। ৭ নভেম্বর প্রভাবশালী শামীমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় পরিবেশ আইনে মামলা করেন সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ।

কিন্তু মামলার অভিযোগপত্র জমা না দেয়ায় ২০১৮ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নোটিশ দেন আদালত। নোটিশ পেয়ে ২ সপ্তাহের মধ্যেই ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান।

এ চার্জশিটের অসঙ্গতি থাকায় সমালোচনার সৃষ্ঠি হয় এরপর বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করলেন তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর দেয়া চার্জশিটে কিছু ভুল ও তথ্যগত ঘাটতি ছিল। তা সংশোধন করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করলাম। আশা করি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

যা দেখে কেউ আর পরিবেশ ধ্বংস করার চেষ্টা করবে না। নতুনভাবে দেয়া এ চার্জশিটে কি আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ অভিযোগপত্রে যোগ হয়েছে গত ৫ বছর ধরে ধ্বংসলীলার নানা জব্দকৃত আলামত। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসামিদের পূর্ব অপরাধের তথ্য।

আদালতে জমা দেয়া চার্জশিটে দেখা যায়, ২০১২ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আসামিদের ব্যবহৃত ১০০৫টি অবৈধ বোমা মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হয়েছে, যার বিবরণ কেস ডায়েরিতে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে বলা হয়। এছাড়া আসামিদের আগের অপরাধের কলামে ২২ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় থাকা অতীত ইতিহাসের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২২ আসামির মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের স্বভাব-চরিত্র ভালো নয় বলে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে জানানো হয়।

এর মধ্যে প্রধান আসামি শামীমের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা, তার ভাই বিল্লালের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, গরিব উল্লাহর বিরুদ্ধে ৬টি, করিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩টি, আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে ২টি, শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২টি, আমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫টি, আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ৮টি, আঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে ৯টি, ইলিয়াস আলী রাসার বিরুদ্ধে ৫টি, কেফায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ৫টি, মাহমুদ হোসেন মছন হাজীর বিরুদ্ধে ১টি, বশর মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি, কালা মিয়ার বিরুদ্ধে ৭টি, আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে ৪টি, মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ১টি, আলী নূরের বিরুদ্ধে ৩টি, মামুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩টি ও কাউছার আহমেদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলার তথ্য দেয়া হয়েছে চার্জশিটে। এছাড়া বাকি তিন আসামি নুরুল আমিন ওরফে বম, আবদুল লতিফ ও শায়েস্তা মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে কোনো মামলার তথ্য নেই বলে জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ