মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

সিলেটে অবুঝ ভালোবাসা মানছে না আইন-আদলত!

সিলেটে অবুঝ ভালোবাসা মানছে না আইন-আদলত!

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক কিশোরী প্রেমিকাকে সিলেটের আদালত স্বামীর কাছ থেকে এনে মা-বাবার জিম্মায় দিলেও মায়ার টানে সেই কিশোরী প্রেমিকা আবারো স্বামীর ঘরে ফিরে এসেছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক এই কিশোরীকে তার মা-বাবা তাদের আরেক মেয়ের বাড়ীতে নিয়ে আটকে রেখেছিলেন। সেখানে বোন জামাই দুলাল ওই কিশোরীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেওয়ারও উদ্যোগ নেন। এসব বিষয় টের পেয়ে কিশোরী তার বাবাকে ফোন দিয়ে ডেকে কঠোরভাবে জানায়, তার বিবাহিত স্বামী ছাড়া আর কোথায়ও সে বিয়ে করবে না। এই মুহুর্তে তাকে যেন সিলেটের ছড়ার পারে অবস্থিত তার স্বামী শামীম আহমদের কাছে পাঠিয়ে দেন। মেয়ের হুমকিতে বাবা আবু বকর সিদ্দিক বাধ্য হয়ে মেয়েকে সিলেট নিয়ে এসে সোবনাহীঘাট ফুলতলী মাদ্রাসার সামনে ছেড়ে দিয়ে স্বামীর বাসায় চলে যেতে বলেন। মেয়েটি হঠাৎ করে স্বামীর বাসায় চলে আসলে শ্বশুর বাড়ির সকলেই অবাক হয়ে যান। মেয়েটি বাবার কাছ থেকে কিভাবে চলে আসলো তাই নিয়ে তারা বিষম চিন্তায় পড়ে যান।
ঘটনাটি তারা শুক্রবার কোতোয়ালী মডেল থানাকেও অবহিত করেন। থানা প্রশাসন স্বামীর পক্ষের লোকজনকে মেয়েটিকে প্রশাসনের জিম্মায় দিয়ে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায় ইব্রাহিমপুর গ্রামের মৃত আবুল কাহেরে ছেলে শামিম আহমদের সাথে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার পশ্চিম রাজানগর গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ১৫ বছরের এক কন্যা রহিমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নব দম্পতি কয়েকদিন ঘর সংসারও করেন।
হঠাৎ বেঁকে বসে কন্যার পিতা আবু বকর সিদ্দিক। তিনি তার মেয়েকে অপরহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে কতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং জিআর ৬৯/২০১৯)। মামলার প্রেক্ষিতে প্রেমিক-প্রেমিকাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালত রাহিমা আক্তারের বয়স ১৮ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মা-বাবার জিম্মায় রাখার আদেশ দেন এবং প্রেমিক-প্রেমিকাকে মুক্তি দেন। আদেশের কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রেমের টানে মা-বাবার বাড়ি ছেড়ে স্বামীর কাছে ছুটে এসেছে কিশোরী রাহিমা আক্তার। সে বলছে শামীকে ভালোবেসে সে ঘর ছেড়েছে। যে কোন উপায়েই হোক সে তার স্বামীকে পেতে চায়। স্বামী ছাড়া এক মুহুর্তও সে থাকতে পারবে না। তার বাবা ও দুলাভাই তাকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সবকিছু বুঝে শুনে সে শ্বশুর বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বয়স হলে সে ঘর সংসার করবে এখন সে নিরাপদ থাকতে চায়।
ছেলে পক্ষের লোকজন জানায়, ছেলে মেয়ের বিয়ের বিষয়টি এক সময় মেয়ের পিতা মেনে নিয়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করে দেন। যে কারণে বেধে যায় নানা বিপত্তি। এদিকে ছেলের অভিভাবকরা আদালতের আদেশের বাইরে যেতে চাইছেন না। কাকতালীয়ভাবে মেয়েটি তাদের বাসায় চলে আসলে তারা ভীত হয়ে পড়েছেন। মেয়ের বাবাও কোন সহযোগিতা করছেন না। এ অবস্থায় মেয়েকে তার মা-বাবার কাছে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কিন্তু মেয়ে স্বামীকে ছাড়া কোথাও যাবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ