সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

সিলেটে ইমন হত্যা: দু’জনের সাক্ষ্য প্রদান

সিলেটে ইমন হত্যা: দু’জনের সাক্ষ্য প্রদান

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট :: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু ইমন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহন আবার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের মা শামীমা বেগমসহ দুইজন সাক্ষ প্রদান করেন। সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসানের আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদানকালে হত্যাকান্ডের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানিয়েছেন, ইতোমাধ্যে বাদির মানিত সাক্ষি ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহন শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, যারাই এরই মধ্যে সাক্ষ্যি দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই প্রমান করতে পেরেছেন কারা শিশু ইমনকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, ইমনের মা ছাড়াও মঙ্গলবার আত্মীয় আব্দুর রহমান নামের এক ব্যাক্তি সাক্ষ্যি দেন।

সাক্ষ্যপ্রদানকালে ইমনের মা শামীমা বেগম উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ ইমন বাড়ির সামনে খেলা করছিল। তার পিতা তাকে খেলার মাঠ থেকে আনতে গেলে তাকে পাননি। ওইদিন আসরের নামাজের পর গ্রামের কালা মিয়ার মোবাইল ফোনে বলা হয় ২ লাখ টাকা নিয়ে দোয়ারাবাজার গেলে ইমনকে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ৮ এপ্রিল সিলেটের কদমতলী থেকে মসজিদের ইমাম শুয়াইবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বাতিরকান্দি শাহজালাল জামে মসজিদের সামনে নিয়ে আসা হয়। ওইসময় শুয়াইবুর রহমান জানায়, আসামী রফিক, জাহেদ ও ছালেহ আহমদ মিলে ইমনকে হত্যা করেছে। শামীমা আরও উল্লেখ করেন, মসজিদের সামনের লিন্টারের নিচ থেকে বিষের বোতল, ছুরি ও রক্তমাখা তোয়ালে উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে ঠেঙ্গারগাওয়ের মতিন হাজির জমিন থেকে ইমনের মাথার খুলি, হাড়গোড় ও চোয়ালের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।

ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপনের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে। ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশের পর সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি ট্রাইব্যুনালে উঠে। মামলার কার্যক্রম দ্রুতই এগিয়ে চলছিল। আদালতের বিচারক ছুটিতে থাকায় মধ্যখানে মামলার সাক্ষ্যগ্রহন বন্ধছিল। প্রায় এক বছর পর গত ২ আগষ্ট থেকে আবার সাক্ষ্য গ্রহন শুরু করেন আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ