শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

সিলেটে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ, সংঘাতের আভাস

সিলেটে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ, সংঘাতের আভাস

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট :হযরত শাহজালাল (র:) পূণ্যনগরী সিলেটে জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র তাণ্ডব, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর কার্যালয়ে আগুন,  সিটিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার আতঙ্ক উত্তাপ ছড়িয়েছে  সিলেট নির্বাচনী মাঠে ।

সিলেট নগরীতে নির্বাচনের সাত দিন আগে মাঠের উত্তপ্ততা, আতঙ্ক জনমনেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দ্বিতীয় ধাপের এ  সিটি নির্বাচনে তাই সংঘাতের আভাস পাচ্ছে বিভিন্ন মহল।

সিলেটে জামায়াতের ‘হঠাৎ’ উত্থান:

গত শুক্রবার শান্তির নগরী সিলেটে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিদবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের হঠাৎ এ সশস্ত্র হামলায় উত্তপ্ত সিলেটে। হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেলেও এখনো পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ওই একই স্থানে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।

রোববার ভোরে বুরহান উদ্দিন-গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে স্থাপিত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নেভানো গেলেও মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী ব্যানার, পোস্টার, লিফলেটসহ জরুরি কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

শুধু আওয়ামী লীগ নেতারা নয় শুক্রবার জামায়াতের সশস্ত্র হামলার মুখে পড়েন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর বোনজামাই ও তাজ ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী হাসান আব্দুল গণি। ওই দিন নগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিদবাজার জামে মসজিদের ভেতর মেয়র প্রার্থী জামায়াতের মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করছিল দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় হাসান আব্দুল গণি তাদের মসজিদের বাইরে গিয়ে লিফলেট বিলি করতে বলেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তারা। এ ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যে শিবির ক্যাডাররা মুখোশ পরে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে তার ওপর চড়াও হয়। এ সময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে পাশের মহানগর যুবলীগ নেতার মালিকানাধীন মৌরশী রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নেন। তাকে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালায়। প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে আশপাশের ব্যবসায়ীরাসহ সাধারণ মানুষ।

হামলার ঘটনা অস্বীকার করে মেয়র প্রার্থী জামায়াতের মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমার কর্মীরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তার পরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

এর কয়েক দিন আগে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তির ওপরও শিবির হামলা চালায় বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের। অল্পের জন্য সেদিন শিবিরের হামলা থেকে বেঁচে যান ওই যুবলীগ নেতা।

জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না এসব কেন হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে। এসব কারণে ক্রমেই নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। সুষ্ঠু পরিবেশের নির্বাচন আমরা সবাই যে আশা করছি, তা বিঘ্নিত হবে।’

এদিকে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতাকর্মীকে ধরপাকড়সহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। প্রতিদিনই পুলিশ কোনো না কোনো বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ সুরমার ঝালপাড়া থেকে রাসেল ও সুমন নামের দুই কর্মীকে আটক করে নিয়ে গেলেও পুলিশ স্বীকার করেনি। ওই ঘটনার পর প্রার্থীসহ ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘নিখোঁজ’ কর্মীদের সন্ধানের দাবিতে মহানগর পুলিশের উপকমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে চাপের মুখে পুলিশ আটকের কথা স্বীকার করে নেয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ