রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

সিলেটে একই কায়দায় ৫ খুন

সিলেটে একই কায়দায় ৫ খুন

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন। সিলেটে ১৮ দিনে এই কৌশলে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ওসমানীনগর উপজেলার। সেখানে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার ‘বন্ধুরা’। মাথা ও মুখের একাংশ থেঁতলানো অবস্থায় গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) তার লাশ উদ্ধার হয়।

নিহত কিশোরের নাম মোস্তাফিজুর রহমান (১৫)। সে ওসমানীনগর উপজেলার মান্দারুকা গ্রামের আবদুল মছব্বিরের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে কয়েকজন বন্ধু মোস্তাফিজুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি সে। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। শুক্রবার সকালে মান্দারুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা–পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বাবা মছব্বির বলেন, মোস্তাফিজুরকে যারা ডেকে নিয়ে যায়, তারা সংখ্যায় চার-পাঁচজন ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে তিনি চিনতে পারেন। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ওই কিশোরকে আটক করেছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, মান্দারুকা গ্রামের দুজন ও পাশের গ্রামের আরও এক কিশোরের সঙ্গে মোস্তাফিজুরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। মুঠোফোনে অপরিচিত এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য হয়। মেয়েটির সঙ্গে ‘খারাপ কথা’ বলে সেগুলো মুঠোফোনে রেকর্ড করে মোস্তাফিজুরকে শোনাত ওই বন্ধুরা।

মোস্তাফিজুর এতে আপত্তি জানিয়েছিল প্রায় এক মাস আগে। এ নিয়ে তিন বন্ধুর সঙ্গে তার প্রথম দফা ঝগড়া হয়। ১৩ মার্চ আবারও ওই বন্ধুরা মেয়েটির সঙ্গে বলা কথার রেকর্ড তাকে শোনালে মোস্তাফিজুর ক্ষুব্ধ হয়। তখন তিনজনের পরিবারকে ঘটনাটি জানিয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় মোস্তাফিজুর। এ ক্ষোভে বৃহস্পতিবার রাতে মোস্তাফিজুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করে তারা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর পরিবারের সন্তান মোস্তাফিজুর। শিশুদের খেলনা ফেরি করে বিক্রি করত সে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সে ছিল পঞ্চম।

ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আল মামুন বলেন, ইট অথবা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে মোস্তাফিজুরকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পরপরই মোস্তাফিজুরের এক বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ওই কিশোরের মাধ্যমে খুনের কারণ ও জড়িত অন্যদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে।

একইভাবে আরও চার খুন

সিলেটে গত ১৮ দিনে একই কৌশলে আরও ৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, গোয়াইনঘাট উপজেলার সাকরপুর গ্রামে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার হয় সাবুল নম (২৪) নামের এক তরুণের।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায়। স্কুলছাত্র শাহেদ আহমদকে (১৬) তার বন্ধুরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর হাউজিং এস্টেট এলাকায় সমবয়সী একদল কিশোরের অতর্কিত হামলায় সে ছুরিকাহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাহেদ মারা যায়। এ ঘটনায় শাহেদের সমবয়সী ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করার পর পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর নগরে তৃতীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে ১২ মার্চ রাতে মদিনা মার্কেট এলাকায়। ছাব্বির আহমদ (২২) নামের এক তরুণকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের মজুমদারি এলাকার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান তাঁর বন্ধুরা। অতর্কিত হামলায় রাত আটটার দিকে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন ছাব্বির। এ ঘটনায়ও ছব্বিরের বন্ধু ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ দুজন কলেজছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

নগরের বাইরে ১৩ মার্চ কোম্পানীগঞ্জের দরাকুল এলাকায় বদরুল আমিন (২০) নামের এক তরুণকে রাতে ডেকে নেওয়ার পর সকালবেলা পাওয়া যায় গলাকাটা লাশ। কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ