বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৩ অপরাহ্ন

সিলেটে এক মাসে দুই গুম, তিন খুন

সিলেটে এক মাসে দুই গুম, তিন খুন

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক :এক মাসের মধ্যে সিলেট নগরীতে তিনটি খুন ও দুটি গুমের ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না সিলেট মহানগর পুলিশ। আগস্টের ১১, ১৯ ও ৩১ তারিখ সিলেট নগরীতে ধারাবাহিক খুনের শিকার হন দুই প্রবাসী ও এক ছাত্রনেতা। নিহতের স্বজনরা বলছেন, খুনের ঘটনা তদন্তে পুলিশের গা-ছাড়া ভাবের কারণে মূলহোতাদের অনেকে নিরাপদে দেশ ছাড়ছেন।

আগস্টে তিন খুনের পর চলতি মাসের শুরুতেই নগরী থেকে গুম হন দুই তরুণ। এখন পর্যন্ত গুম হওয়া দুই তরুণের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। নিখোঁজ দুই তরুণের পরিবারের ধারণা, পুলিশই তাদের গুম করে রেখেছে।

খুন ও গুমের ঘটনা তদন্তে সময় লাগছে দাবি করে সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গত ১১ আগস্ট নগরীর কুমারপাড়ায় সিটি নির্বাচনের বিজয় মিছিলে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক। কমিটি নিয়ে আধিপত্যের জেরে ছাত্রদলের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে এই হত্যাকা- ঘটায়। ঘটনায় নিহতের চাচা দবির আলী বাদী হয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল রকিব চৌধুরী ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। রহস্যজনক কারণে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।

১৯ আগস্ট মিরাবাজারে নিজ বাসার সামনে নৃশংস হামলার শিকার হন সদ্য দেশে আসা সুইডেনপ্রবাসী মুহিবুর রহমান। ২২ আগস্ট হাসপাতালে মারা যান তিনি। ৩১ আগস্ট জিন্দাবাজারে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান কুয়েতপ্রবাসী শেখ আব্দুল আহাদ। তিনি কুয়েত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

দুই প্রবাসী হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান, ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হত্যাকান্ডের এজহারভুক্ত তিনজন আটক আছে। তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। মূল আসামি আব্দুর রকিব বিদেশে পালিয়ে গেছে বলে শোনা গেলেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসী আব্দুল আহাদ খুনের ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম ও লায়েক মিয়া নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

আরেক প্রবাসী মুহিবুর রহমানকে তার কাছের মানুষের পরিকল্পনাতেই খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরেকটু সময় লাগছে।

এদিকে চলতি মাসে ৫ ও ৬ তারিখ নগরীর টিলাগড় এলাকা থেকেই নিখোঁজ হন ইমাদ উদ্দিন ও সাজ্জাদ আহমদ নামের দুই তরুণ। ইমাদ উদ্দিন কমলগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে। আর এমসি কলেজের ছাত্র সাজ্জাদ হোসেনের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে। তাদের সন্ধান দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও পুলিশ কোনো হদিস দিতে পারছে না।

গুমের ঘটনায় নগরীর শাহপরান থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এ ব্যাপারে সিলেট শাহপরান থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, পুলিশ তাদের আটক করেছে বলে কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার জন্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী তাদের আটক করেছে এমন গুজবেরও ভিত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নিজেরাও আত্মগোপনে থাকতে পারে, আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

সূত্র :আমাদের সময়

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ