বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

সিলেটে ক্রেতাশূন্য পশুর হাট, হতাশায় ব্যবসায়ীরা

সিলেটে ক্রেতাশূন্য পশুর হাট, হতাশায় ব্যবসায়ীরা

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট:‘হয় পৌষ মাস, নয় সর্বনাশ’। এবার সিলেটে গরুর বাজারের এমন অবস্থা হতে পারে এমনই। পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। অথচ এখনো সিলেটে পশুর হাট জমে না ওঠায় এমনটি আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীদের ধারণা, বাজার যে পরিমাণ গরু আছে, বিক্রি শুরু হলে সংকট সৃষ্টি হবে। তাতে বাজারে গরুর দাম আকাশ-পাতালসম থাকবে। আর শেষ সময়ে আমদানি বেশি হলে ধস নামবে, দাম অর্ধেকে নেমে আসতে পারে, জানিয়েছেন নগরের সবচেয়ে বড় পশুরহাট বাজিরবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সুবহান।

তাই এবারের গরুর বাজার যথারীতি জুয়া খেলার ন্যায় ধরে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, শেষ সময়ে গরু বেশি আমদানি হলে গত বছরের ন্যায় দাম অর্ধেকে চলে আসতে পারে, নয়তো দ্বিগুণ দাম হতে পারে, জানিয়েছেন কাজিরবাজারের গরু ব্যবসায়ী জুবের আহমদ।
শুক্রবার (০৯ আগস্ট) পর্যন্ত গরু বিক্রি শুরু হয়নি। সিলেটের বৃহত্তম পশুর হাট কাজিরবাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু থাকলেও অনেকটা ক্রেতাশূন্য বাজার।

তবে, শনিবার (১০ আগস্ট) পুরোদমে বাজার জমে উঠবে বলে আশাবাদি কাজিরবাজারের গরু ব্যাপারি আব্দুস সুবহান।

গরু বিক্রি কম হওয়ার কারণ ব্যবসায়ী জুবের আহমদ বলেন, নগরীর বাসা-বাড়িতে রাখা ও পরিচর্যা করার জায়গা নেই। তাই শেষ সময়ে বিক্রি শুরু হতে পারে। বাজারে এখন যে পরিমাণ গরু রয়েছে, তাতে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। আর শেষ সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু চলে আসলে দামে ধস নামতে পারে। এতে গত বছরের ন্যায় অর্ধেক দরে বিক্রি করতে হবে।
এবার সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে নগর এলাকায় ৩টি ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে ২১টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও জেলা পরিষদ থেকে বেশ কয়েকটি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭১টি হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে, জানায়, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ সূত্র।

এসব হাটে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পশু নিয়ে এরই মধ্যে হাজির ব্যবসায়ীরা। সব কটি হাটে পর্যাপ্তসংখ্যক পশু রয়েছে। কিন্তু এখনো জমে ওঠেনি কেনাকাটা। অবশ্য ব্যবসায়ীরা আশাবাদি, শনিবার (১০ আগস্ট) থেকে বাজারে ক্রেতা সমাগম ঘটতে পারে।

সরেজমিন নগরের সবেচেয়ে বড় পশুর হাট কাজিরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু-ছাগল ওঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সপ্তাহ/দশ দিন আগে থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি।

ব্যাপারি আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ৭০টি গরু নিয়ে কাজিরবাজার এসেছেন। এখনো একটিও বিক্রি করতে পারেননি। তবে তাতে হতাশ নন। কারণ ঈদের শেষ সময়ে বাজারে ক্রেতা সমাগম ঘটবে। কারণ এখন গরম বেশি। তাই শহরের মানুষ গরু কিনে নিয়ে পরিচর্যা করা কষ্টসাধ্য, যে কারণে ঈদের আগের দিন বা একদিন আগে কোরবানির পশু কিনবেন।

তিনি বলেন, ভারত থেকে বাজারে গরু আসছে না। বাজারে গরুর দাম বেশি হওয়ার কারণ খামার থেকেই গরু দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই গরুর চড়াদাম হাকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ঝিনাইদহ থেকে ৪৫টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী আফজল হোসেন এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে ২৫টি গরু নিয়ে কাজিরবাজারে আসা ব্যবসায়ী মেতালেব হোসেন বলেন, বাজারে গরু আছে ক্রেতা নেই। তবে দাম ছাড়ছেন না। কারণ শনি ও রোববার এ দুই দিন বিক্রি বাড়বে আশাবাদি তারা।

গরু কিনতে আসা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জুবের আহমদ বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও গরুর দাম বেশি। ছোট একটি গরু কিনতে হাসিলসহ ৬৯ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অথচ গরুর সাইজ অনুযায়ী দাম বেশি। এবার এ অবস্থা থাকলে অনেকে কুরবানি নাও দিতে পারেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) রাতে নগরীর চৌখিদেখি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ভর্তি গরু রয়েছে, ক্রেতা নেই। কেবল দু‘চার/দশ জন ক্রেতা ঘরছেন এদিক-ওদিক। অথচ বাজার ছাড়িয়ে রাস্তার পাশেও বিস্তৃত হয়েছে গরুর বাজার।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈধ হাটের পাশাপাশি গড়ে ওঠা অবৈধ হাটগুলো জোর পূর্বক পশুবাহি গাড়ি আটকে গরু নামানোয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ