শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০১ অপরাহ্ন

সিলেটে বিএনপিকে ‘শিক্ষা’ দিতেই জামায়াতের প্রার্থী!

সিলেটে বিএনপিকে ‘শিক্ষা’ দিতেই জামায়াতের প্রার্থী!

নিউজটি শেয়ার করুন

  নন্দিত সিলেট :: সিলেটে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াত প্রার্থী, মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। আজ সোমবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষদিন ছিলো। অনেকে মনে করেছিলেন, শেষমেষ বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে নাটকীয়ভাবে কোন সমঝোতা হয়ে যেতে পারে! কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো জামায়াত প্রার্থী জুবায়ের নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোর মধ্যদিয়ে। সরে দাঁড়াননি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও। যে কারণে চরম বেকায়দায় রয়েছে সাংগঠনিকভাবে ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাওয়া বিএনপি।

আগেই খবর ছিলো জোটের সিদ্ধান্ত মানছে না জামায়াতে ইসলামী। সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার অনেক চেষ্টা করেও তাদের দমানো যায়নি। তাদের এই অনড় অবস্থান মূলত বিএনপিকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য। কারণ, বিএনপি জামায়াতের সাথে কথার অনেক হেরফের করেছে। আর জাতীয় নির্বাচনের মাস চারেক আগে জামায়াত বিএনপি শিক্ষা দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ হিসেবেই বেছে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। রোববার জামায়াত নেতারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফল যাই হোক ভোট থেকে সরবে না তাদের প্রার্থী। এ কারণে ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে টানাপড়েন সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও তাতে পরোয়া করছে না নিবন্ধন হারানো দলটি।

আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির ভোট। রাজশাহী ও বরিশালে বিএনপির সমর্থনের মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। কিন্তু সিলেটে স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। নির্বাচনে আছি, থাকব।

গত সপ্তাহে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় তিন সিটিতেই মেয়র পদে জোটের একক প্রার্থী থাকবে। সিলেটে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে জোটের সমর্থন দেওয়া হয়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে জামায়াত বিবৃতিতে জানিয়ে দেয়, একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে হয়নি। সিলেটে তাদের প্রার্থী থাকবে।

এখনও জামায়াত সে অবস্থানেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সিলেটে বিএনপির প্রার্থীকে জামায়াত সমর্থন করেনি। বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ১৯ দলের প্রার্থী হতে পারেন, ২০ দলের নয়। সিলেটে বিএনপি ও জামায়াত যে যার মতো নির্বাচন করবে। এতে জোটের ভোট ভাগাভাগি হয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধা হবে কি-না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নিজস্ব আদর্শ রয়েছে। সব বিষয়ে একমত হতে পারলে আলাদা দল হতো না।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, বিএনপিকে ‘শিক্ষা’ দিতেই সিলেটে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। দলটির ধারণা, সিলেটে তারা ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভোট পেতে পারে। তাতে পাস করা যাবে না; কিন্তু বিএনপির পরাজয় নিশ্চিত হবে। জামায়াত ছাড়া বিএনপির পক্ষে এককভাবে নির্বাচনে জেতা সম্ভব নয়; ১৯ বছরের পুরনো জোট শরিককে জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে এ বার্তা দিতে চায় জামায়াত।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট জাতীয় নির্বাচনের জন্য। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নয়। জামায়াতকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছে বিএনপি। কিন্তু সিলেটে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনজনই নির্বাচন করব, দেখি কার কী অবস্থা হয়। এতে যদি আওয়ামী লীগের সুবিধা হয় তার দায় জামায়াতের নয়।

রাজশাহীতে মেয়র পদে বিএনপি সমর্থন দিলেও জোটের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে মাঠে নামেনি জামায়াত। সেখানে দলটির দাবি, কাউন্সিলর পদ নিয়ে আগে ফয়সালা করতে হবে। রাজশাহীর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডের ১৪টিতে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। ১০ মহিলা কাউন্সিলর পদে দুটি জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হয়েছে। এগুলোতে জোটের সমর্থন চায়। সমর্থন না পেলে জোটের পক্ষে নামবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তারা।

গত সপ্তাহে রাজশাহী যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি দলের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কও। বিএনপি ও জোটের অন্য শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে তিনি ধারাবাহিক বৈঠক করলেও কাউন্সিলর পদে জোটের সমর্থনের দাবি করা জামায়াত নেতারা তার সঙ্গেও দেখা করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ