সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ১২:১৯ অপরাহ্ন

সিলেটে ভোটযুদ্ধের ‘রণপ্রস্তুতি’ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

সিলেটে ভোটযুদ্ধের ‘রণপ্রস্তুতি’ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : সিলেটে ভোটযুদ্ধের ‘রণপ্রস্তুতি’ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আপাতত মাঠের লড়াইয়ের দিকে চোখ তাদের। আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হচ্ছে। আর এই প্রচারণার শুরু থেকে উভয় দলই নিজেদের পক্ষে মাঠ দখলে নিতে চায়। দল ও জোটে একক প্রার্থী দিয়ে আওয়ামী লীগ সু-সংহত থাকলেও বিএনপি ঘর গুছিয়ে মাঠের লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।

ইতিমধ্যে দুটি দল তাদের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে।
প্রধান কার্যালয় সহ নগরীর প্রায় সব ওয়ার্ডেও তারা নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া নিয়মমতো নির্বাচনী কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রচারণা শুরুর আগেই সিলেটে নিজের ওয়ার্মআপ সেরে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। গতকাল পর্যন্ত তিনি ঘরোয়া বৈঠক, কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে এক দফা কাজ সেরে রেখেছেন। এর মধ্যে কামরানকে নিয়ে সিলেটের ভোটযুদ্ধে ছক এঁকেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো এবারের নির্বাচনে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবে দলের নেতারা।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সিলেটে আওয়ামী লীগ জয় ঘরে তুলতে প্রচারণায় তারা জোর দিচ্ছেন। সিলেটে সফর করে গেছেন দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তারা সিলেটে কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে গেছেন। কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সদস্য সচিব মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেটের নির্বাচনে মনিটরিং করবেন। গত কয়েক দিন ধরে চলছে ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা। সেটি আগামীকালের মধ্যে সমাপ্ত হয়ে যাবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন- এবার তার নির্বাচনের প্রধান কার্যালয় খোলা হচ্ছে নগরীর মীর্জা জাঙ্গালস্থ নির্ভানা ইনের পাশে। আগামীকাল মঙ্গলবার দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে এই কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হবে। তিনি বলেন- এবার যেহেতু মার্কা নৌকা সে কারণে তিনি দলের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। দল যেভাবে চাইবে সেভাবে তিনি নির্বাচন করবেন। তবে- এবার সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত টিম ওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন- দলের ভেতরে ভেদাভেদ না থাকায় সবাই নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। কামরানের পক্ষে সিলেটে ইতিমধ্যে মহিলালীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ সহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা সক্রিয় হয়ে সংগঠিত ভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচন নিয়ে এসব সংগঠনে চলছে প্রস্তুতি সভা।

বসে নেই বিএনপিও। বদরুজ্জামান সেলিম প্রার্থী থাকার পরও দলীয় প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নগরের বাইরে আলাদা কর্মিসভা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সিলেট ও ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতাদেরও বৈঠক হয়েছে। গঠন করা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এবার সিলেটে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ হককে। সদস্য সচিব হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক। আর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ গতকাল বিকালে  জানিয়েছেন- সিলেটে বিএনপি মাঠের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

আমরা সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি। দলের প্রার্থীর পক্ষে সবাই একাট্টা রয়েছেন বলে জানান তিনি। বিএনপির তরফ থেকেও এখন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মীরা ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ করছেন বলে জানান তিনি। আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনের প্রধান কার্যালয় খোলা হচ্ছে নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার উচা সড়কের মীতা কমিউনিটি সেন্টারে। সেখান থেকে নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করা হবে বলে জানান বিএনপি নেতারা। এদিকে- বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের ক্ষোভ কমাতে গতকাল সকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় গিয়েছিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

সেখানে আরিফুল হক চৌধুরী তার বন্ধু এবং রাজনৈতিক সহকর্মী বদরুজ্জামান সেলিমকে তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান। কিন্তু এতেও কাজ হয়নি। দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে প্রার্থী থাকার কথা জানিয়েছেন সেলিম। এতে করে আরিফ বলয়ে কিছুটা হতাশা নেমে এসেছে। ওদিকে- জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৪০টি সেন্টার কমিটি গঠন করে রেখেছে জামায়াতে ইসলামী। তারা পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আচরণ বিধি সম্পর্কে ট্রেনিংও দিয়েছে।

ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করুন- সিলেট জেলা বিএনপি: সিলেট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন- আসন্ন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। গণতন্ত্রের নেত্রীকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়া খুবই কষ্টকর। তবুও গণতন্ত্রের স্বার্থে সিসিক নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। তাই আসন্ন নির্বাচনে সিলেট সিটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে ধানের শীষ প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় শহরতলির খাদিমস্থ সুচনা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সদস্য এবং সকল উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। দিলদার হোসেন সেলিম বলেন- আমরা কোনো ব্যক্তির পক্ষে নয়, উন্নয়ন অগ্রগতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে লড়বো। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন- বিএনপি আমার ঠিকানা।

এর বাইরে আমার কোনো পরিচয় নেই। অতীতের সকল ত্রুটি সংশোধন করে আমি আমার দলের নেতাকর্মীদের নিয়েই সিলেটের চলমান উন্নয়ন সম্পূর্ণ করতে চাই। সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন- দেশ চরম ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়তে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে বন্দি।

কিন্তু তাই বলে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কাহির চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, জেলা সহসভাপতি মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস, কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জেলা সহসভাপতি এ.এম মুছাব্বির, এ.কে.এম তারেক কালাম, হাজী শাহাব উদ্দিন, সৈয়দ মোতাহির আলী, জালাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, আজির উদ্দিন চেয়ারম্যান, গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, এনায়েত উল্লাহ, এডভোকেট কাউসার রশীদ বাহার, উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম ময়ুর, আফরোজ মিয়া, শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, আহমেদুর রহমান চৌধুরী মিলু, ইলিয়াস মেম্বার ও মাজহারুল ইসলাম ডালিম, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন চেয়ারম্যান, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মইনুল হক, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোমতাজ আহমদ রিফা, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, আবুল কাশেম ও শামীম আহমদ এবং প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জায়গিরদার প্রমুখ।

তথ্য সূত্র : মানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ