সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

সিলেট ‘করদাতা বাড়লে দেশ উন্নত হতে সময় লাগবে না’

সিলেট ‘করদাতা বাড়লে দেশ উন্নত হতে সময় লাগবে না’

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট :: ‘আয়করের প্রবৃদ্ধি, দেশ ও দশের সমৃদ্ধি‘ স্লোগানে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও শুরু হয়েছে আয়কর মেলা। আজ সকাল ১০টায় নগরের রিকাবিবাজার মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে সাত দিন ব্যাপি আয়কর কর মেলার উদ্বোধন করা হয়।

সিলেট কর অঞ্চলের কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সিলেটের সাংস্কৃতিক সংগঠক রজত কান্তি গুপ্ত এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা খান উর্মির পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (ট্র্যাক্সেস এন্ড এনফোর্সমেন্ট) সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিলেট কর অঞ্চলের কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, সিলেট মেট্রোপলিটনেরর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসিন আহমদ, সিলেট ডিস্ট্রিক্ট ট্র্যাক্সেস অব এসোসিয়েশনের সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর (ভোলা)।

অনুষ্ঠানে প্রধান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (ট্যাক্সেস এন্ড এনফোর্সমেন্ট) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে গেলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রয়োজন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ট্যাক্স বিভাগও এগিয়ে যাচ্ছে। গত ৩৩ বছরে দেশে ট্যাক্স সংগ্রহ বেড়েছে ২৬ গুণ। ইটিআইএনধারী ২১ লাখ থেকে হয়েছেন ৩৭ লাখ।

তিনি আরো বলেন, জাতির উন্নয়নের জন্য প্লাটফর্ম তৈরী হয়েছে। প্রতি বছর ৩/৪ লাখ বেড়েছে। আর এভাবে করদাতা বাড়লে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে সময় লাগবে না। তাছাড়া আগের চেয়ে কর প্রদান প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। যে কারণে করদাতা সংখ্যাও বাড়ছে। তাছাড়া করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করলে ইটিআইএনধারী আরো বাড়বে।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেটের কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন বলেন, কর বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে করদাতাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় রাজস্ব আহরণে কর অঞ্চল সিলেট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা, আয়কর প্রদান আরো সহজীকরণ, সিলেটে কর ভবন তৈরী, শ্রেষ্ট করদাতাদের সিআইপি মর্যাদা দেওয়া, টেক্স প্রদানকারীদের বৃদ্ধ বয়সে রাষ্ট্র পাশে দাঁড়ায় এবং কর মেলার ব্যাপ্তি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম কর কমিশনার সাহেদ আহমেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন, উপ কর কমিশনার (প্রশাসন) কাজল সিংহ, আনোয়ার সাদাত, বাপন চন্দ্র দাস, সাদ উলল্লাহ, আবু সাঈদ, অতিরিক্ত সহকারি কর কমিশনার কামরুল হোসেন, আনিসুর রহমান, সহকারি কর কমিশনার আবু নাসের সিদ্দিকী, কর পরিদর্শক ফাতেমা বেগম, সামসুন্নাহার সহ অতিথিবৃন্দ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট কর অঞ্চল ২২টি সার্কেলে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে সিলেটে ১৩, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে ৩টি কর অঞ্চল রয়েছে। এবার মেলায় ২০টি সার্ভিস ডেস্ক, ৩টি ইটিআইএন, রিটার্ন গ্রহণ, সঞ্চয়ী ব্যুরো, আইনজীবী, ব্যাংক বুথের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা প্রতিবন্দ্বী ও সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বুথ করা হয়েছে মেলায়।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৮৫২ দশমিক ৯৮ কোটি লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে অর্থ বছর শুরু করে সিলেট কর অঞ্চল। অর্থ বছরে সিলেটে ১৮ হাজার নতুন ইটিআইএনধারী করার লক্ষ সিলেট কর অঞ্চলের। এরইমধ্যে নতুন করদাতা হয়েছেন ৬ হাজার। আগামি অক্টোবরের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান মতে, ২০১৭-১৮ সালে ৭২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫১৯ দশমিক ১৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। এরআগে ২০১৬-১৭ সালে ৫০০ কোটি টাকা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫১৫ দশমিক ২৮ কোটি টাকা আদায় হয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪৪০ কোটি লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গিয়ে আদায় হয় ৩৮৩ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৩২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫৯ দশমিক ৭৮ কোটি টাকা।

এবার মেলা থেকে ৪৫ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মেলা শুরু করেছে সিলেট কর অঞ্চল। গত বছর মেলা থেকে দাখিলকৃত রিটার্ণের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫৯৯। আর আদায় ছিল ৪১ কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ