মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

সিলেট নগরীতে উন্নয়ন কাজে ভোগান্তি

সিলেট নগরীতে উন্নয়ন কাজে ভোগান্তি

ছবি : এমরান ফয়সল

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :বন্দরবাজার টু জিন্দাবাজার। জেলরোড টু বারুতখানা পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশ প্রশস্থ ও নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রায় দেড় মাস আগে। অর্ধেকেরও কম কাজ শেষ করে এই প্রকল্পের কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। যতোটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তাতেও ‘ফিনিশিং’ বাকি। এই প্রকল্পের কাজের জন্য জিন্দাবাজার এলাকার সড়কের একপাশ গর্ত করা হয়। গর্তের নোংরা কাদামাটি ফেলে রাখা হয় সড়কের মধ্যেই। এছাড়া ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রীও।

সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বলা হয় জিন্দাবাজারকে। অথচ এই প্রাণকেন্দ্রই এখন বিশৃঙ্খলার ঘেরাটোপে বন্দি। নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এই এলাকায় নগরবাসীর ভোগান্তিরও যেন কোনো শেষ নেই।

সিলেট নগরীর ‘জঞ্জালের’ অন্যতম হচ্ছে তারের (ক্যাবল) জট। তবে জঞ্জাল জিন্দাবাজার এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। বৈদ্যুতিক ক্যাবল, ইন্টারনেট, ফোন, ডিশ প্রভৃতির ক্যাবল যততত্র ঝুলঝে জিন্দাবাজারজুড়ে। বৈদ্যুতিক খুঁটি, ভবন-মার্কেটের পিলার, গ্রিল সবখানে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে ক্যাবলের জঞ্জাল। এতে জিন্দাবাজারের পরিবেশ হয়ে ওঠেছে বিপজ্জনক। এসব ক্যাবল মাটির নিচে নেয়ার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। সেটিও ভেস্তে যেতে বসেছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, জিন্দাবাজারকেন্দ্রিক যানজট নিত্যদিনের বিষয়। নগরীর বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার হয়ে আম্বরখানামুখী যানবাহনের স্রোত থাকে সবসময়। আবার আম্বারখানা থেকে চৌহাট্টা পয়েন্ট হয়ে জিন্দাবাজারমুখী যানবাহনের স্রোতও সমানতালে চলে। লামাবাজার থেকে জিন্দাবাজার কিংবা জিন্দাবাজার পয়েন্ট হয়ে জেলরোড, নয়াসড়ক প্রভৃতি এলাকা এবং এসব এলাকা থেকে আবার জিন্দাবাজারমুখী যানবাহনের চাপও নিত্যনৈমিত্তিক। এর বাইরে হাওয়াপাড়া, বারুতখানা, তাঁতীপাড়া প্রভৃতি এলাকার সড়ক দিয়ে জিন্দাবাজারে আসা যানবাহনের চাপ রয়েছে। এই চতুর্মুখী যানবাহনের চাপে জিন্দাবাজারের অবস্থা শোচনীয়। যানজট আর যানবাহনের হর্ণে জিন্দাবাজার সর্বদাই শব্দমুখর।

জিন্দাবাজারের যানজট কিছুটা হ্রাস করতে সম্প্রতি কোর্টপয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার হয়ে চৌহাট্টা সড়ক পর্যন্ত রিকশা ও লেগুনা নিষিদ্ধ করে উভয় দিকে যান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও এসএমপির ট্রাফিক পুলিশ। তবে ১ মে নেয়া ওই সিদ্ধান্ত থেকে দু-তিনদিন পরই সরে আসে তারা। এর পরিবর্তে কোর্টপয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার পর্যন্ত সড়কে রিকশা ও লেগুনা নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাও মানছে না কেউ। এ সড়কে রিকশা, লেগুনা সবই চলছে ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে। আর উভয়দিকে যান চলাচল নিয়েও রয়েছে বিশৃঙ্খলা। কখনও উভয়দিকে যান চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে, কখনো আটকে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে নগরবাসীর বিভ্রান্তিও কাটছে না।

এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আপাতত কোর্টপয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার পর্যন্ত সড়কে রিকশা ও লেগুনা নিষিদ্ধ করে পর্যবেক্ষণ করছি। কিভাবে জিন্দাবাজারের যানজট নিরসন করা যাবে, কিভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টা সড়কের ডান পাশে ৩৩ কেভি/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনের জন্য খোঁড়াখুড়ি শুরু করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। গত তিন-চারদিন ধরে ফুটপাতঘেঁষে এই খোঁড়াখুড়িতে শুরু হয়েছে নতুন ভোগান্তি। একদিকে সড়ক হয়ে পড়েছে সংকুচিত, অন্যদিকে নোংরা কাদামাটি, পানি সব ফেলা হচ্ছে সড়কের মধ্যেই।

এদিকে, জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে কোর্টপয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে জল্লারপাড় এবং জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে বারুতখানা পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখল হয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে। মাঝেমধ্যেই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন অভিযান চালায়। কিন্তু একদিকে অভিযানে দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হয়, অন্যদিকে এসে তারা ফের দখল করে বসে। এর ফলে নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে তাদেরকে। এতে মূল সড়কে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

জিন্দাবাজারের আরেক সমস্যা হচ্ছে যততত্র বৈদ্যুতিক খুঁটি। নগরীর অন্যান্য স্থানের মতো জিন্দাবাজার এলাকায় সড়কের মধ্যেই বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি করলেও এগুলো সরানোর কোনো উদ্যোগ নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জিন্দাবাজার এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় যততত্র। বছর দুয়েক আগে সিটি করপোরেশন ময়লা ফেলার জন্য কিছু ডাস্টবিন বসিয়েছিল। সেগুলোর সিংহভাগই ‘নাই’ হয়ে গেছে। হাতেগোনা দু-চারটি বিন থাকলেও সেগুলোতে ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে সচেতন নয় মানুষ। ফলে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয় ময়লা-আবর্জনা। পূর্ব জিন্দাবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে দেয়ালে নোটিশ লিখে রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনই বিদ্যালয়টির সামনে ময়লার স্তূপ জমে থাকে!

জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা রামিন তালুকদার ‘সিলেট নগরীর প্রাণ হচ্ছে জিন্দাবাজার। এই প্রাণকেন্দ্রেই এতো বিশৃঙ্খলা, ভাবা যায় না।’

জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সিলেটকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আগে জিন্দাবাজারের দিকে নজর দিতে হবে। সবগুলো বিশৃঙ্খলায় একসাথে হাত দিলে হবে না। একেকটি করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

সামগ্রিক বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জিন্দাবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তবে শুধু জিন্দাবাজার নয়, পুরো নগরীকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা, পরিচ্ছন্ন করে তোলা, যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে আমরা দিনরাত কাজ করে চলেছি। কিন্তু আমাদের একার পক্ষে সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীকে, সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। আমাদের কাজের সাথে নগরবাসী, নাগরিকবৃন্দ সবাই যদি এগিয়ে আসেন, তবে ধীরে ধীরে সমস্যা আর থাকবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ