মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

সিলেট সংস্কৃতি সমৃদ্ধ অঞ্চল: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ

সিলেট সংস্কৃতি সমৃদ্ধ অঞ্চল: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট :: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ (এমপি) বলেছেন, ওলি আউলিয়া ও দেশের সংস্কৃতির বহু পুরধা ব্যক্তিত্বের পূণ্যভূমি সিলেট। রাজনৈতিক বিবেচনায়ও সিলেটকে অতীব গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এই অঞ্চলের রয়েছে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক গুণাবলী।

তিনি বলেন, সরকার সংস্কৃতির সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এর উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আগামিতেও এই ধারা অব্যাহত রেখে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাকে অগ্রসর করতে একটি আলোকিত সমাজ গঠনে কাজ করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের ১৪ দিনব্যাপী মহান একুশের আলোকের নাট্য প্রদর্শনীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ, এর ধারা অব্যাহত রেখে নাট্য চর্চাকে গতিশীল রাখার দায়িত্ব নাট্যকর্মীদের। তিনি বলেন, সিলেট সংস্কৃতি সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট আয়োজিত মহান একুশের চেতনায় নাট্য প্রদর্শনীর সমাপনি দিনছিলো সিলেটের নাট্যমোদী দর্শকদের পদচারনায় মুখর। বিগত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিন ব্যাপী নাট্য প্রদর্শনীর গতকাল ছিলো শেষ দিন। সমাপনি দিনে মঞ্চস্থ হয়নাট্যালোক সিলেটের নাটক ‘কালচক্র’ বিকাল সাড়ে ৫টায় অডিটোরিয়াম মুক্তমঞ্চে আয়োজন করা হয় সমাপনি অনুষ্ঠানের।

একাডেমি ফর মনিপুরী কালচার এন্ড আর্টস (এমকা) এর শিল্পীরা মনিপুরীদের উৎসব নৃত্য ‘লাই হারাউবা’ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাপনি অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জনাব এ কে খালিদ (এমপি)।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেটেরসহকারী ভারতীয় হাই-কমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তি ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী মিশু’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রতিবছরের মতো মহান একুশের আলোকে নাট্য প্রদর্শনীতে নাট্য পরিষদের পক্ষ থেকে নাট্যাঙ্গণে বিশেষ অবদান রাখার জন্য নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা শফিক আহমদ জুয়েল কে মরনোত্তর এবং সংগীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য গুনী সঙ্গীতজ্ঞ হিমাংশু গোস্বামীকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গুণীজন সম্মাননা তুলে দেন। ১৪ দিনব্যাপী আয়োজন উপলক্ষে সুপ্রিয় দেব শান্ত’র সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

সমাপনী আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দকে নাট্য পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল ও উত্তরীয় এবং উৎসব স্মারক উপহার দেয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তির জীবনী পাঠ করেন নাট্য পরিষদ সিলেটের সহ-সভাপতি উজ্জ্বল দাস। সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির কাছ থেকে নাট্য প্রদর্শনীতে বিশেষ সহযোগিতার জন্য শুভেচ্ছা স্মারক গ্রহণ করেন নিরঞ্জন দে যাদু, অরূপ বাউল, তন্ময় নাথ তনু, কার্তিক পাল ও প্রদীপ কুমার রায়। সমাপনি অনুষ্ঠান শেষে অডিটোরিয়াম মূল মঞ্চে নাটক পরিবেশন করে নাট্যালোক সিলেট (সুরমা)।
এই নাটকে বাঙালির আবহমান কালের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাকে নতুন করে আবিস্কার করার চেষ্ঠা করা হয়েছে। স্বাধীনতাপ্রেমী বাঙালি জাতি যুগে যুগে মুক্তির মিছিলে স্বোচ্চার থেকে ইতিহাসের পাতায় গৌরবের তিলক চিহ্ন পরিয়ে দিলেও সেই গৌরব গাঁথা কালের আবর্তে কখনো মূর্ত আবার কখনো বিমূর্ত হয়ে মানুষের মুখে মুখেই রয়ে গেছে। ইতিহাসে স্থান পায় নি। তেমনি একটি গৌরব গাঁথা ১৭৭৬ সালে সিলেটে ইংরেজ শাসন বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ। পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মাত্র ১৯ বছরের মাথায় এই ঘটনা ঘটে থাকলেও তৎকালীন প্রশাসন একে নিতান্তই একটি বিশৃঙ্খলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না। কালের চক্রে তা একদিন না একদিন বেরিয়ে আসে। তাই তো রবার্ট লিন্ডসে তার আত্মজীবনী গ্রন্থে সিলেটে তার বরো বছর শাসনের অধ্যায়ে সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহাদীসহ নাম না জানা শহীদের আত্মত্যাগকে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে গেছেন। নাট্যালোক সিলেট সেই ঘটনাটি নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে উপস্থান করে পুণরায় সিলেট তথা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইতিহাসের কালচক্র ঘোরানোর চেষ্ঠা করেছে মাত্র।
বাবুল আহমদ এর রচনায় ও খোয়াজ রহিম সবুজের নির্দেশনায় নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহবুব চৌধুরী, বাবুল আহমদ, অচিন্ত্য অমিত, আব্দুস শহীদ দুলাল, আতিকুর রহমান, ফারজানা জাহান শারমিন, ফারহিন জাহান নুবা, শুভ, পাপ্পু, ইজেল, দিলওয়ার, নাজমুল, প্রিয়াংকা রায়, অক্ষয়, দীপন, নূরজাহানজেসমিন, তারিন, বিধান, কমলেশ সাহা, জুবায়ের, মাহমুদ ও তনয়।

নাটক শেষে অংশগ্রহণকারী দলের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রাক্তণ প্রধান পরিচালক ব্যারিস্টার আরশ আলী, নিজাম উদ্দিন লস্কর, প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, পরিচালক চম্পক সরকার ও কনোজ চক্রবর্তী বুলবুল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ