মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন

সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক :: ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ২টিতে জামায়াতকে ছাড় দিয়েছিলো বিএনপি। এবার জামায়াত ৩টি, খেলাফত মজলিস ২টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২টি আসনে ২৩ দলীয় জোটের মনোনয়ন চায়। এখন পর্যন্ত জোটের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না হওয়ায় কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন। এনিয়ে সিলেটের সর্বত্র চলছে জোর আলোচনা।

বিএনপি’র একটি সূত্রে জানা গেছে, এবারও সিলেটে ২টি আসনে শরীকদের ছাড় দেয়া হতে পারে। জামায়াত ৩টি আসন চাইলেও সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) ও সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে এবারও জোটের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকী চার আসনের একটিতেও বিএনপি শরীকদের ছাড় দিতে নারাজ। এই চার আসনের অন্যতম সিলেট-৩ (দক্ষিণসুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপি’র ৪ জন, খেলাফত মজলিসের একজন ও জামায়াতের একজন মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে মনোনয়ন, তা জানতে জোটের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। অতীতে এই আসন দক্ষিণসুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিলো। এবার বালাগঞ্জ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মোট ভোটার হচ্ছেন ৩ লাখ ২২ হাজার ২৯৩ জন। ৯১ ও ৯৬ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টির মুকিত খান। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থি হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি’র শফি আহমদ চৌধুরী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থি হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস।

এবার সিলেট-৩ আসন পুনরুদ্ধারে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি’র একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের মধ্যে আলোচিত চারজন হচ্ছেন দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ হক, সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম। তারা চারজনই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী।
দক্ষিণসুরমা উপজেলার অধিবাসী শফি আহমদ চৌধুরী জোট সরকারের আমলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করলেও বিগত ১০ বছর মাঠে তেমন সক্রিয় ছিলেননা। সে জন্য নেতা-কর্মীদের সাথে তার কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

তবে, শফি আহমদ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিগত দিনে বিপদে-আপদে তিনি সব সময় নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে আমি নির্বাচন করে আসছি। সংসদ সদস্যও ছিলাম। মানুষ আমার উন্নয়ন কাজ দেখেছে। তাই দলও আমাকে সেভাবে মূল্যায়ন করবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ এবারও আমি মনোনয়ন পাবো এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক এই আসনে এবার প্রার্থি হতে বেশ কিছুদিন থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন তৎপরতা। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার অধিবাসী। এম এ হক বিএনপি’র জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ)সহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে টানা ১১ বছর বিএনপি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এবং পরবর্তী ৫ বছর মহানগর শাখার সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলের বিতর্কিত নামকরন বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন এম এ হক। সদালাপী ও বিনয়ী এম এ হক সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দু’বার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পুলিশী হামলা, মামলাসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি এম এ হক। সকল সময়ে বিপদে-আপদে নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন । এম এ হক আশাবাদী তাঁর অতীত ও বর্তমান কর্মকান্ড মূল্যায়ন করে বিএনপি সিলেট-৩ আসনে তাঁকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেন, মনোনয়ন পেলে সকলের সহযোগিতায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী এই আসনে প্রার্থি হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী তাঁর সাথে রয়েছেন। নিজ এলাকায় জনপ্রিয় কাইয়ুম চৌধুরী ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী কাইয়ুম চৌধুরী একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও পরিচিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর প্রচেষ্টায় সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

বিগত জোট সরকারের আমলে সিলেটের উন্নয়নের রূপকার সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব থাকাকালে তাঁর উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে কাইয়ুম চৌধুরী দক্ষিনসুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। ২০ দলীয় জোটের শরীক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর রয়েছে সুসম্পর্ক।

কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। দলের নেতা-কর্মীদের বিপদে আপদে তাদের পাশে ছিলেন। যোগ্যতার মাপকাঠিতে দল এবার তাঁকেই মনোনয়ন দেবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সিলেট-৩ আসন পুনরুদ্ধারে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।

দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। গত ১০ বছর তিনি অনেকবার দেশে এসে প্রার্থি হওয়ার লক্ষ্যে তার নিজ এলাকা দক্ষিন সুরমায় নানা তৎপরতা চালিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ জনস্বার্থ পরিপন্থী যেসব আইন করেছে, এগুলোর পরিবর্তনে সংসদে যোগ্য নেতৃত্ব দরকার। সে বিবেচনায় দল থেকে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম। তিনি বলেন, মনোনয়ন পেলে তিন উপজেলার নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।

এদিকে, এই আসনে প্রার্থি হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ। নির্বাচনী এলাকায় সর্বত্র তার পরিচিতি রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে সামনের কাতারের লোকমান আহমদ একাধিকবার কারাবরন করেন। দলের নেতা-কর্মীরা এবার তাকে সিলেট-৩ আসনে প্রার্থি দেখতে চান।

খেলাফত মজলিসের মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন এই আসনে প্রার্থি হওয়ার জন্য কয়েক বছর থেকে সাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এ পর্যন্ত অসংখ্য সভা-সমাবেশ করেছেন তিনি । দলের নেতাকর্মীরা এবার জোটের প্রার্থি হিসেবে তাঁকে দেখতে চান। কিন্তু, এখনো সবুজ সংকেত না পাওয়ায় তারা হতাশ। সিলেটে জোট কোন আসন না দিলে দলীয় ব্যানারে পুথক নির্বাচন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ