বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

সিলেট-৩ : মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি

সিলেট-৩ : মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট : সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। নৌকা প্রতীকে মহাজোট প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মাহমুদ উস-সামাদ চৌধুরী কয়েস এর সাথে লড়াইয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী। গত দেড় যুগ ধরে এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দু’জন।

এবারের নির্বাচনেও তারা দু’জন মুখোমুখি। তবে হিসাব অনেক। দুই বড় জোটের শরিকরাও আছেন এবারের ভোটের মাঠে। মহাজোটের জাতীয় পার্টির উসমান আলী লাঙ্গল প্রতীকে, আর ২৩ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসেন আছেন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে দুজনেরই ভোটে ভাগ বসাবেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে মূল লড়াইটা শফি আর কয়েসেরই।

২০০১ সালে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির শফি চৌধুরী। এবারো বিএনপি তার উপরই আস্থা রেখেছে। ইতিমধ্যেই প্রচারণায় জোর দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার পক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের নেতৃত্বে তিন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ঐকফ্রন্টের নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এতে করে শফি আহমদ চৌধুরী স্বল্প সময়ে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বালাগঞ্জ উপজেলায়ও তার রয়েছে ভোট ব্যাংক। তবে ভোটের মাঠে খেলাফতের প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে শফি চৌধুরীকে। এ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হয়েছেন জেলার যুগ্ম সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন। মাদরাসা কেন্দ্রিক ভোট খেলাফত মজলিসের ঘরে গেলে বেকায়দায় পড়তে পারেন শফি আহমদ চৌধুরী।

তবে বিএনপি প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবার কোন আলামত এখনো দেখা যাচ্ছে না। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ নির্বাচনের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। পুলিশি হয়রানির কারণে তিন উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, তবে ৫০ ভাগ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলেও এই আসনে নৌকার অস্তিত্ব থাকবে না। ধানের শীষের পক্ষে মানুষের গণজোয়ার তৈরি হয়েছে।

২০০৯ সালে শফি চৌধুরীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এরপর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। তবে এবার মহাজোট প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে ছাড় দেয়নি মহাজোটের অপর শরিক জাতীয় পার্টি। এখানে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙল প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন জেলার সদস্য সচিব উসমান আলী। এ আসনটি এক সময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল। ফলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এই আসনে ভোট টানবে নিজের বাক্সে। সে লক্ষ্যে উসমান আলীও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরেশোরে। এছাড়া এই নির্বাচনেও এখনো আওয়ামী লীগের একটি অংশ কয়েসের বিপক্ষে অবস্থানে রয়েছে। এদের কাছে টানাই হচ্ছে তার বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে মাহমুদুস সামাদ চৌধুরীর কাছে এসব কোন বাধাই মনে হচ্ছেনা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে আমার নির্বাচনী আসনের ৩ টি উপজেলাই শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ সার কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে আমার নির্বাচনী এলাকা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।’

তিনি বলেন, আমার এই দুই মেয়াদে সাংসদ থাকাকালীন সময়ে পৌনে আট হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে এই আসনে। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিগত জোট সরকারের সাথে তুলনা করলে জনরায় আমার দিকেই আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ