মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

সিলেট-৫ : প্রার্থী নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীন জোট-মহাজোট

সিলেট-৫ : প্রার্থী নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীন জোট-মহাজোট

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক :সিলেটের দুটি সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে সিলেট-৫ আসন। এ আসনে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট-মহাজোট নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটপ্রার্থী ঘোষণার আগেই জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটও প্রার্থী নিয়ে আছে দোদুল্যমান অবস্থায়।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত সব দলের নেতাকর্মীদেরই চাওয়া নিজ দলের একক প্রার্থী। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

এ আসনে মহাজোট থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন। দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। তবে তাঁর নিজ এলাকা সিলেট-৬ আসনের বিয়ানীবাজার উপজেলায়। এবারো তিনি সিলেট-৫ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে চাইছেন না। তাদের ভাষ্য এলাকা থেকেই হতে হবে এমপি। গত সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দলের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ। এবারও তিনি দল থেকে মনোনয়ন চাইছেন। অপরদিকে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েও ফের ফিরে এসে মনোনয়ন চাইছেন সাবেক সাংসদ হাফিজ আহমদ মজুমদার। স্থানীয় রাজনীতিতে সজ্জ্বন ব্যক্তিত্ব হিসেবে যথেষ্ঠ জনপ্রিয় তিনি।

নিজের মনোনয়ন প্রশ্নে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, গত নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলাম। এবারও দলের মনোনয়ন চাইছি। আর তাছাড়া স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থেই এবার দলীয় প্রার্থী চাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে সবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সভানেত্রী। তিনি যা বলবেন তাই, আমি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।

এছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড.আহমদ আল কবির, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল মোমিন চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি মোশতাক আহমেদ।

বৃহত্তর সিলেটের এই আসনটিতে জামায়াতের অবস্থান মোটামুটি শক্ত। তাই বিগত ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটি জামায়াতের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। যেখানে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলনা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করেও জামায়াত প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। আর তাই ফরিদ ‍উদ্দিন চৌধুরীকে ফের এই আসনে মনোনয়ন দিয়ে জামায়াত এ আসনটি পুনরুদ্ধার করার দাবি জানিয়েছে।

তবে এবার আর বিএনপি নেতারা এ আসনে জামায়াতকে ছাড় নিতে নারাজ। বিগত সিটি নির্বাচনে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে নিজেদের একক প্রার্থী দেয়ায় দুদলের অবস্থান এখানে বিপরীতমুখী।

কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, প্রবাসী নেতা শরীফ লস্কর, জাকির হোসেন ও জাহিদুর রহমান এই আসন থেকে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন।

মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, সিলেট-৫ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হাত ছাড়া অথচ বিএপির ভোটেই জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে লড়েন। তিনি আরো বলেন, সিলেট-৫ আসনকে জামায়াতমুক্ত করার প্রত্যয়ে নির্বাচনে লড়তে চাই। বিএনপির সকলস্তরের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী চাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

তবে আশা ছাড়েনি জামায়াত। এই আসন নিজেদের দখলে রাখতে ইতিমধ্যেই জোটে দাবি রেখেছেন তারা। সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটে রয়েছি। জোট থেকে এই আসনটি অনেক আগে থেকেই আমাদের সাথে সমঝোতা হয়েছে। এখন বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন এমন বলছেন তা জানা নেই আমার। তবে তিনি মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আশাবাদী বলেই জানান।

তবে জোট মহাজোটের হিসেবের বাইরে এই আসনে খেল দেখাতে পারেন আল্লামা আব্দুল লতিফ ফুলতলী’র পুত্র মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ