সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

সুখের জোড়া শতক, আক্ষেপেরও

সুখের জোড়া শতক, আক্ষেপেরও

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক:স্রোতের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে কী অসাধারণ লড়াইটাই না করলেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ। রেকর্ড ছোঁয়া সেঞ্চুরিতে সকালটা রাঙালেন সৌম্য। দ্বিতীয় সেশন আলোকিত হল মাহমুদউল্লাহর শতকে। ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলার পথে পঞ্চম উইকেটে দু’জন গড়লেন ২৩৫ রানের মহাকাব্যিক জুটি।

তাতে অনুমিত চিত্রনাট্যে অনেক কাটাছেঁড়া হল বটে, কিন্তু দিনশেষে এড়ানো গেল না অনুমিত পরিণতি। সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং বীরত্বের পরও বাংলাদেশ হারল ইনিংস ব্যবধানে। রোববার চতুর্থদিন হ্যামিল্টন টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫২ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।

ছয় উইকেটে ৭১৫ রানে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর ৪৮১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ চার উইকেটে ১৭৪ রানে তৃতীয়দিন শেষ করেছিল। শুধু ইনিংস হার এড়াতে তখনও দরকার ছিল ৩০৭ রান। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৩৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন চতুর্থদিনে বাংলাদেশ হয়তো প্রথম সেশনও টিকতে পারবে না।

সেই ধারণাটা অন্তত ভুল প্রমাণ করেছেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত দিনের শেষ সেশনে ৪২৯ রানে থামে বাংলাদেশ, যা শুধু আক্ষেপই বাড়িয়েছে। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার চক্রে আটকে না থাকলে ইনিংস হারের গ্লানি এড়ানো সম্ভব ছিল। ২৩৫ রানের যুগলবন্দিতে সেই সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে যা বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। কিন্তু জুটি ভাঙতেই আশার সমাধি। দ্বিতীয় নতুন বলে ট্রেন্ট বোল্টের তোপের মুখে মাত্র ৬৮ রানে শেষ ছয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতকে সৌম্য ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে ৯৪ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে যে রেকর্ড গড়েছিলেন তামিম ইকবাল, কাল তাতে ভাগ বসালেন সৌম্য। ৯৪ বলে সেঞ্চুরির পর শেষ পর্যন্ত ১৭১ বলে ১৪৯ রানে থামেন সৌম্য। অন্যদিকে হ্যামিল্টনে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট শতকে মাহমুদউল্লাহ করেছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৪৬ রান। শেষ ছয় ইনিংসে এটি মাহমুদউল্লাহর তৃতীয় সেঞ্চুরি। আগেরদিন ১২৬ রানে চতুর্থ উইকেটের পতনের পর জুটি বেঁধেছিলেন দু’জন।

কাল কিউই পেসারদের আগুনে জল ঢেলে পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। উইকেটবিহীন প্রথম সেশনে সৌম্য ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ২৯ ওভারে আসে ১৩৬ রান। লাঞ্চের পর তাদের জুটি পেরিয়ে যায় দু’শ। স্বাগতিক বোলাররা কিছুতেই সুবিধা করতে পারছিলেন না। কিন্তু নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় নতুন বল নিতেই ছবিটা বদলে যায়। বোল্টের দারুণ এক সুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য। মাহমুদউল্লাহ তখন ৯০ রানে ব্যাট করছেন। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজরা দ্রুত রণেভঙ্গ দিলেও সাবলীল ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহ তুলে নেন সেঞ্চুরি।

২০১০ সালে এই হ্যামিল্টনেই করেছিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এবার সেঞ্চুরি করলেন অধিনায়ক হিসেবে। সেঞ্চুরির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মাহমুদউল্লাহ। সঙ্গী না পেয়ে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েন ১৪৬ রানে।

একই ওভারে মাহমুদউল্লাহ ও ইবাদতকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন ৯৮ রানে তিন উইকেট নেয়া টিম সাউদি। ১২৩ রানে বোল্ট নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। উইকেটের পেছনে দুটি ক্যাচ নিয়ে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ২০২টি ডিসমিসালের নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিজে ওয়াটলিং। শুক্রবার ওয়েলিংটনে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

মাহমুদউল্লাহ

রান ১৪৬

বল ২২৯

চার ২১টি

ছয় ৩টি

সৌম্য সরকার

রান ১৪৯

বল ১৭১

চার ২১টি

ছয় ৫টি

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ