সোমবার, ২২ Jul ২০১৯, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জের কসাইখানার নেই ছাড়পত্র, পরিবেশ বিপর্যয়

সুনামগঞ্জের কসাইখানার নেই ছাড়পত্র, পরিবেশ বিপর্যয়

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবিদেক:জেলার আনাচে কানাচে অবহেলা অব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে কসাইখানা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ট্রেডলাইসেন্সের মাধ্যমে এসব কসাইখানার অনুমতি দিয়েছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনের কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই রোগাক্রান্ত পশু জবাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের রোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এছাড়াও আইনানুযায়ী পৌরসভা কিংবা কসাইখানার জন্য নির্দিষ্ঠ একজন ভেটেরিনারি সার্জনের পদ রয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জ পৌরসভায় এই পদ সৃষ্টি করাই হয়নি বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
আইনের ধারায় উল্লেখ রয়েছে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ ২০১১ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এবং ভেটেরিনারি সার্জনের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রোগমুক্ত পশু হিসেবে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট কসাইখানায় এসব পশু জবাই করা যাবে। এছাড়াও কসাইখানার দেখবাল করার জন্য একজন হেলথ ইন্সপেক্টর সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করার বিধান রয়েছে। তবুও সুনামগঞ্জ শহরে এ আইনের ধারেকাছেও নাই কসাইখানাগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও দায়সাড়াভাবে এই কর্যক্রম পরিচালনা করছেন। যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। এসবের ফলে জনস্বাস্থ্য এখন হুমকির মুখে।
পৌরসভার ভেতরে কসাইখানা মাত্র দশটি। সেখানেও পশু জবাইয়ের যথাযথ পরিবেশ নেই। একজন ভেটেরিনারি সার্জনের পদ রয়েছে কিন্তু কার্যক্রমে নেই। যার ফলে শহরে রোগাক্রান্ত পশু অবাধে জবাই হচ্ছে। জবাই করা পশুর মাংস স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তবে পৌরসভার নির্মানাধিন কিচেন মার্কেটে একটি স্বাস্থ্যসম্মত পশু জবাইখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে জানালেন হেল্থ ইন্সপেক্টর। শহরে কসাইখানা তৈরির উপযোগী জায়গা না থাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকার পরও স্বাস্থ্যসম্মত পশু জবাইখানা করা যাচ্ছে না। যেগুলো আছে সেগুলো পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত নয় স্বীকার করে এই কর্মকর্তা জানালেন, পৌর নাগরীকের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে কসাইখানাগুলোকে ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। তবে তাদের মনিটরিং এর জন্য পৌরসভা একজন পরিদর্শক নিয়মিত দেখবাল করছেন।
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিনই পশু জবাই হচ্ছে এবং জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পশুটির শরিরে ভেক্সিন কিংবা এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ হয়ে থাকলে ওই ঔষদের নির্ধারিত মেয়াদ পার হওয়ার আগ পর্যন্ত পশুটি খাওয়া যাবেনা। খেলে ভেক্সিন কিংবা এন্টিবায়োটিক প্রভাব মানব দেহে থাকবে। এছাড়াও পশু মরণব্যধি জলাতংক এন্ত্রাক্স ভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে তা দ্রুত মানব দেহে ছড়িয়ে পরবে বলে জানিয়েছেন, সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ জাকির হুসাইন।
জানা যায়, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক মাংসের দোকান রয়েছে। এগুলো হলো কাজির পয়েন্টে শহীদ মিয়া, আবু মিয়া ও মনির মিয়ার মাংসের দোকান। মাছ বাজারে জবক্ষার আলী, বাসস্টেন্ডে শামসু মিয়া, ওয়াজখালীতে শামিম আহমদ, নতুন পাড়ায় হাবিব উল্লাহ, আবুল হেসেন রোডে নিবু মিয়া। এছাড়া অস্থায়ীভাবে (সাপ্তাহিক) আছে হোসেন বখত চত্তরে কালা মিয়া ও কালিবাড়ীতে শুক্কুর আলী।
মনির মিয়ার মাংসের দোকানে থাকা মনির মিয়ার পিতা মন্তাজ মিয়া বলেন, আমারা পৌরসভার লাইসেন্স নিয়ে এখানে ব্যবসা করছি। পৌরসভার লোক নিয়মিত মাংসে সীল দিয়ে ২০০ টাকা নেয় রিসিটও দেয়। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রোগমুক্ত পশু জবাই হয় কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দিতে চাননি তিনি।
৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তেঘরিয়ার আশিকুর রহমান পীর বলেন, আমরা মাংস কিনি কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই। কেননা জাচাই করার কোন সুযোগ নাই। মাংসে পৌরসভা সীল দেখেই কিনি এবং আমার মতো সকল ক্রেতাই এভাবে মাংস কিনেন। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রোগমুক্ত পশু জবাই হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া এই শহরে সম্ভবই না। তাছাড়া ওজনেও কম দেয়া হয় এবং ত্রেতা তা মেনে নিতে বাধ্য।
মাইজবাড়ী গ্রামের রিয়াসত আলী জানালেন, আমরা দেখি সাধারণত যেসব গরু-ছাগল-মহিষ রোগাক্রান্ত সেইসব পশুই দ্রুত কসাইর কাছে বিক্রয় করা হয়। তাছাড়া সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতীয় চোরাই গরুই বেশী জবাই করে কসাইখানাগুলো।
সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ জাকির হুসাইন বলেন, একজন ভ্যাটেনারী সার্জন দ্বারা পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যসম্মত ও রোগমুক্ত নিশ্চিত হওয়ার পরেই ওই পশুটি খাওযার উপযোগী হবে। পশুতে কোন ভেক্সিন কিংবা এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ হলে ঐ ভেক্সিন কিংবা এন্টিবায়োটিক উইৎড্র প্রিয়ড এর মধ্যে জবাই করা হলে ঐ ঔষদের প্রভাব মানবদেহে কর্যকর হবে। ফলে মনবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকবে। পশু জলাতংক ও এন্ত্রাক্সে ভাইরাসে আক্রান্ত্র থাকলে তা দ্রুত মানব দেহে ছড়িয়ে পরবে বলেও জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত জানান, কসাইখানার জন্য ভেটেরিনারি সার্জনের বিষয়ে আমি জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে ভেটেরিনারি সার্জনের সমস্যা সমাধান করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ