সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

“সুনামগঞ্জে বন্যা : বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার”

“সুনামগঞ্জে বন্যা : বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার”

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:ছয়দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ৬টি উপজেলা প্লাবিত হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। অনেক জায়গায় ডুবে গেছে বিশুদ্ধ পানির একমাত্র উৎস টিউবওয়েল (নলকূপ)। খাবার পানির অভাবে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পান করছেন হাওরের দূষিত পানি। এতে করে পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যার পানিতে প্রায় ১৩ হাজার ১শ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পানিবন্দি মানুষজন বন্যার দূষিত পানি পান করছেন।

আজ রোববার (১৪ জুলাই) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পানি বিশুদ্ধ করার জন্য বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণের ৩০ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া বন্যার পানিতে যেসব টিউবওয়েল ডুবে গেছে, সেগুলো বন্যার পানি নেমে গেলে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধৌত করা হবে।

শহরের বড়পাড়া সুরমা নদীর পাড় এলাকার হাফসা বেগম বলেন, ‘পানিতে ঘরের টিউবওয়েল তলিয়ে গেছে। পানি কিনে খাওয়ার মতো সামর্থও নেই আমাদের। বাধ্য হয়েই বন্যার পানি খেতে হচ্ছে।’

সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের ফারহান মিয়া বলেন, ‘ঘরে কোমর পানি, টিউবয়েল সেই পানির নিচে। আমাদের খাওয়ার পানির খুব অভাব। আমাদের যদি সরকার থেকে
ফিটকিরি দেয়া হয়, তাহলে পানি খাওয়ার সমস্যা থাকবে না।’

সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন, ‘আমার এলাকার ৮০ভাগ মানুষ পানিবন্দি। সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, তবে ত্রাণের তালিকায় বিশুদ্ধ পানি নেই। এজন্য সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট দেয়া হলে মানুষ কিছুটা উপকৃত হতো। কারণ চুলা জ্বালিয়ে পানি ফুটানোর মতো অবস্থা নেই এখন।’

জেলার সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষজন যাতে বন্যার পানি পান না করেন, সেজন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। যদি পানি পান করতে হয়, তাহলে
ফিটকিরি অথবা পানি ফুটিয়ে পান করতে বলা হয়েছে। না হলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।’

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি উপজেলায় ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। এগুলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। বন্যায় প্রায় ১০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ