মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বাঁধা, ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ

সুনামগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বাঁধা, ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ফল বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালানায় সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার বিকাল ৩ টা থেকে প্রায় একঘণ্টা এই বিক্ষোভ করেন তারা। ফলবাজার সংলগ্ন গণপূর্ত বিভাগের অফিসার্স কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট রাহুল চন্দকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকাল ৪ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যান তাকে।

বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ফলবাজারের কয়েকটি দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ১৫ মন খেজুর জব্দ করেন দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি জব্দ করা খেজুরের মেয়াদা ২০২০ সাল পর্যন্ত রয়েছে। এ নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে ব্যবসায়ীদের বাকবিতান্ডা হয়। তারা জব্দ করা খেজুর ফেরৎ দেওয়ার দাবি জানান।

কিন্তু কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় বাজারের সবগুলো ফলের দোকান বন্ধ করে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ঘিরে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভের মুখে ফলবাজার সংলগ্ন গর্ণপূর্ত বিভাগের অফিসার্স কোর্য়াটের গাড়ি নিয়ে ঢুকেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল। ফল ব্যবসায়ীরা প্রায় এক ঘণ্টা তাকে সেখানে অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।

ফল ব্যবসায়ী রাজিব রায় দাবি করেন, গত দুই দিনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার খেজুর জব্দ করা হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে, যে খেজুরগুলোর মেয়াদ ছিল। ছোটখাট ব্যবসা করে আমরা সংসার চালাই। আমাদের উপর এভাবে অত্যাচার হলে আমরা চলব কিভাবে।

ব্যবসায়িদের এমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সুনামগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হাসান বলেন, ফল বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত খেজুর জব্দ করেন। জব্দকৃত খেজুরের মেয়াদ আছে বলে দাবি করে গাড়ি আটকে রাখে বিক্ষোব্ধ ব্যবসায়িরা। আমরা এ বিষয়টি সমঝতা করা চেষ্টা করি। স্থানীয় ব্যবসায়ি ও পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল চন্দ বলেন, ‘ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ও পঁচা খেজুর জব্দ করতে শুরু করেছিলাম। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে এমন মালামাল ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ীই জব্দ করা হয়। কিন্তু অভিযান শুরুর পর ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন যাতে মেয়াদ উত্তীর্ণ মাল জব্দ করা না যায়।

ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রমে বাঁধা প্রদান করায় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম বলেন, ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ আইনে বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের কাজে যারা বাঁধা প্রদান করেছে সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ