বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ

সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :ফণীর আগ্রাসনে অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওর ও শনির হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বৌলাই নদীর পানি প্রবেশ করেছে।

রোববার (৫ মে) ভোররাতে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ও রহমতপুর এলাকা দিয়ে শনির হাওরে এবং বদরপুর ও নিতাইপুর এলাকা দিয়ে হালির হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে তবে রৌদ্রের দেখা পাওয়ায় জনগনের মধ্যে একটু স্বস্তি মিলেছে। হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকাতে এলাকাবাসী প্রানান্তর চেষ্টা করলেও পানির ব্যাপক চাপ থাকায় তা ঠেকানো যাচ্ছে না বলে অবিযোগ সাধারন মানুষজনের মধ্যে। এই আশংঙ্কায় বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষকের নেতৃত্বে এই বাঁধগুলোতে বালু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে বাঁধটি মজবুত করে তৈরি না করায় বাঁধটি এখন ভেঙে যেতে বসেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অবিরাম বৃষ্টিপাতে নেমে আসা পানির চাপে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন্ন হাওরে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৌলাই নদীর পানি বাড়তে থাকায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নদনদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ফসল রক্ষা বাঁধের আপার মেরে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করে এবং ক্রমশ তা বাড়তে থাকে। এই ঘুর্ণঝড়ের প্রভাবে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে ভারী র্বষণ হয়। হাওররে ফসল রক্ষা বাঁধের ডিজাইন লেভলে অতিক্রম করে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বাঁধ এলাকায় থাকা লোকজন পানি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও পানির প্রচন্ডচাপে তারা বাধঁ রক্ষা করতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ জানান, ‘হাওরে পানি প্রবেশের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষানিকভাবে বাধঁ এলাকায় ছুটে গিয়ে দেখতে পাই ফসল রক্ষা বাঁধ উপচে পড়ে পানি হাওরে প্রবেশ করছে।
‘হাওরের নীচু এলাকার জমির ধান কাটা হয়ে গেছে, এখন উচু এলাকায় কিছু জমির ধান রয়েছে। তবে খলায় এখনও অনেক ধান ও খড় রয়েছে, গত ৪/৫ দিনে হঠাৎ অতবৃিষ্টপাতের ফলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খলার ধান ও গোখাদ্য অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে হালির হাওরের ফসল রক্ষা বাধেঁর পিআইসি কমিটির সভাপতি মনেছা বেগম জানান, ‘দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে বৌলাই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলেছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরচিালক মোহাম্মদ আব্দুল মন্নাফ বলনে, ‘হাওরের সব জমির ধান কাটা হয়ে গছে। তাহরিপুর, ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামাগলঞ্জ এসব এলাকার হাওরের শতভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে।
তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ, উপজেলা কৃষি র্কমর্কতারা তাকে জানিয়েছেন হািলর হাওর ও শনির হাওরের শতভাগ জমি ধান কাটা হয়ে গেছে এখন কিছু জমি রয়েছে যেগুলো অবস্থান বেশ উচু এলাকায়। হাওরে পানি প্রবেশ করায় ধানের কোনও ক্ষতি হবে না। দেরিতে রোপন করায় পাকতে দেরি হচ্ছে বলে, সদর দোয়রাবাজার বিশ্বম্ভরপুর এলাকায় কিছু ধান কাটা বাকি রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, শনিবার পর্যন্ত হাওর এলাকায় মোট এক লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে এক লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। হাওর ছাড়া মোট ৫২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে কাটা হয়েেছে ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান। চলতি বোরো মওসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর ও তাহিরপুর উপজেলায় ১৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। হালির হাওর ও শনির হাওরের ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছিল ।
এদিকে, রবিবার সকাল ১১টায় ঐ সমস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শনে আসেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী র্কমর্কতা প্রিয়াংকা পাল। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাঁধ নিমার্ণে কারও গাফলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুয়াযী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ