সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

সোহরাওয়ার্দীতে আলেম উলামাদের স্রোত, শোকরানা মাহফিল

সোহরাওয়ার্দীতে আলেম উলামাদের স্রোত, শোকরানা মাহফিল

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমিল) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ সংবর্ধনা দেবে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
রোববার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছে ‘শুকরানা মাহফিল’।

সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হলেও ফজরের পর থেকেই সোহরাওয়ার্দীমুখি আলেম-উলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের স্রোত নেমেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রওয়ানা দিয়ে ভোরে অনেকে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন।

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শুকরানা মাহফিলে’ ১০ লক্ষাধিক আলেমের সমাগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

এ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

উদ্যানে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণকারীরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আগেও অনেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোহরাওযার্দী উদ্যানে এসেছেন। কিন্তু এবারের আয়োজন একটু ব্যতিক্রম। বিশাল এলাকাজুড়ে প্যান্ডেল, বসার জন্য চেয়ার, বিভিন্ন স্থানে পর্য়াপ্তসংখ্যক টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে। ভোর থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন আলেমরা।

রাজধানীতে এ বড় সমাবেশকে সামনে রেখে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে। আজকের পূর্বনির্ধারিত জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ৯ নভেম্বর সকাল ৯টায় ওই পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনার স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শনিবার দুপুরে পরিদর্শন করেছেন জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও জমিয়াতুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা আশা করছি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ শোকরানা মাহফিলে উপস্থিত হবেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার জন্য নজিরবিহীন একটি কাজ করেছেন, যা এর আগে কেউ-ই করেনি। আমরা তাকে শুকরিয়া জানাতেই একত্র হব।

আল্লামা আহমদ শফী শোকরানা মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ উপস্থিত থাকবেন। তিনি নিজেই তো প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছেন। এ মাহফিলের সভাপতিত্বও করবেন তিনি। আমরা দোয়া করছি, তাকে আল্লাহতা’আলা সুস্থ রাখুন।

হেফাজতে ইসলাম একসময় সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল, এখন পক্ষে চলে এসেছে কীভাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আল্লামা মাসউদ বলেন, হেফাজতে ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না।

তারা শাপলা চত্বরে তাদের দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছিল। আর এখন তো অনেক বড় একটি কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন। কওমি মাদ্রাসা স্বীকৃতি, আইন পাস করানো ছোট কোনো বিষয় নয়। এটি নজিরবিহীন।

আলেমদের এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো দাবি রাখা হবে কিনা জানতে চাইলে মাসউদ বলেন, সে রকম কোনো বিষয়ে সম্মিলিত পরামর্শ হয়নি। তবে জামায়াত নিষিদ্ধকরণ, কাদিয়ানিদের মিথ্যাচার প্রচারের বিরুদ্ধে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন।

ব্যাপক প্রস্তুতি

কওমি মাদ্রাসাগুলোর সম্মিলিত বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এই ‘শুকরানা মাহফিল’ বাস্তবায়ন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সারা দেশের কয়েক লাখ আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থী শোকরানা মাহফিলে অংশ নেবেন। সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে চলমান গণশিক্ষা ও দারুল আরকাম মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষকও এতে যোগ দেবেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এই সংবর্ধনা বাস্তবায়নে বিশেষভাবে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্টজনরাও উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশে যোগ দিতে আল্লামা আহমদ শফী গতকালই ঢাকায় পৌঁছান।

শুকরানা মাহফিলে সর্বাধিক লোকসমাগমের জন্য কাজ করছেন ছয় বোর্ডের নেতারা। বোর্ডগুলোর অধীনে থাকা মাদ্রাসাগুলোর ছাত্র-শিক্ষকদের আসার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন তারা।

অনুষ্ঠান মঞ্চে ৫০ জনের মতো অতিথি থাকবেন। বেফাকসহ ছয় বোর্ডের নেতারা মঞ্চে বসবেন। এ ছাড়া পাঁচ হাজার ভিআইপি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে নেতৃস্থানীয় আলেম ও সরকারি অতিথিরা বসবেন। অনুষ্ঠান থেকে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে কাফের ঘোষণা ও আলেমদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে।

নির্বাচনের আগে এমন একটি সমাবেশ কোনো প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে একটি বোর্ডের প্রধান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘এটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কওমি মাদ্রাসার জন্য নজিরবিহীন একটি কাজ করেছেন, যা এর আগে কেউ করেনি। আমরা তাকে শুকরিয়া জানাতে একত্র হব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ