সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জের সেই চিকিৎসক আত্মগোপনে

হবিগঞ্জের সেই চিকিৎসক আত্মগোপনে

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: সুস্থ শিশুকে অসুস্থ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা নিয়ে দুই চিকিৎসকের কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর থেকে বেসরকারি অরবিট হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. খায়রুল বাশার আত্মগোপনে রয়েছেন। গত দুই দিন ধরে তিনি হাসপাতালে আসছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই তার।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি আড়াল করতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসককে কয়েকদিন আসতে নিষেধ করেছেন। স্থানীয়রা একজন চিকিৎসকের এ ধরনের কাজের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলীর এলাকার রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবা ৩১ আগস্ট ঘন ঘন হেচকি দিতে থাকে। এরপর শিশুটির মা তাকে অরবিট হাসপাতালে ডা. খায়রুল বাশারের কাছে যান। পরদিনও শিশুটির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শিরিনা আবারও কথা বলেন চিকিৎসকের সঙ্গে। এসময় ডা. খায়রুল বাশার জানান, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে দ্রুত মৌলভীবাজারের একটি হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় মৌলভীবাজার ছুটে যান শিশুর মা। সেখানেই ডা. বিশ্বজিতের সঙ্গে কথা বলেন ডা. খায়রুল বাশার। সুস্থ জিবাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন তিনি। সে অনুযায়ী, রাতে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় জিবাকে।

পরে দুই চিকিৎসকের কথোপকথন ফাঁস হয়ে যায়। দুই চিকিৎসকের অডিও ক্লিপটি শুনে বোঝা যায়, অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য ডা. বাশার শিশুটিকে ভর্তি করে রাখতে বলেন অপর চিকিৎসক বিশ্বজিতকে বলেন।

আউশকান্দি গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুর রহমান জানান, সুস্থ শিশুকে অসুস্থ দেখিয়ে চিকিৎসা করানো একটা অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে সাধারণ মানুষ ডাক্তারদের বিশ্বাস করতে পারবে না।

হবিগঞ্জ শহরের মহিলা কল্যাণ সংস্থার সভানেত্রী রুখসানা জামান চৌধুরী জানান, সুস্থ শিশুকে অসুস্থ দেখিয়ে বাবা-মাকে আতঙ্কে রাখাও এক ধরনের অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের অবশ্যই শাস্তি হওয়া দরকার। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে অন্যান্য চিকিৎসকরা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে।

এ ব্যাপারে ডা. বাশারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মী পরিচয় দিলে এ বিষয়ে কোনও কথা না বলে ফোন কেটে দেন।

অরবিট হাসপাতালের মালিক মহিবুর রহমান হারুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনও ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাক্ষাতের জন্য চিঠি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে তদন্ত কমিটির কাজ শুরু করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ও অরবিট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার যেকোনও সময় তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ডা. খায়রুল বাশার সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট হলেও দীর্ঘ এক যুগ ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত অরবিট হসপিটালে নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন। এছাড়া অপর চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দেব মৌলভীবাজার সদর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তিনিও মামুন হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ