শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

হে আল্লাহ ঘুমিয়ে থাকা আত্মা জাগিয়ে দিন

হে আল্লাহ ঘুমিয়ে থাকা আত্মা জাগিয়ে দিন

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্ম ডেস্ক:সূর্য অস্ত যেতেই মুমিনের দস্তরখানা সেজে ওঠে বাহারি ইফতারিতে। মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসে মধুর আজানের ধ্বনি- আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। এক টুকরো খেজুর বা এক গ্লাস পানি দিয়ে শুরু হয় ইফতার।

ইফতার শেষে সালাতুল মাগরিব। কিছুক্ষণ বিশ্রাম। শুরু হয়ে যায় সালাতুত তারাবি। তারাবি শেষে বাসায় ফিরেই শোয়ার প্রস্তুতি। সেহরিতে উঠতে হবে অল্প পরেই। এভাবেই কাটে মুমিনের রমজানের দিনগুলো। আমরা ঘুমাই। জেগে উঠি। আবার ঘুমাই। আবার জাগি। জীবনের এতটা বসন্ত এভাবেই পারি দিয়েছি আমি-আপনি।
হে প্রিয়পাঠক, আমরা রমজানে জাগছি ঠিকই; কিন্তু আমাদের ঘুমিয়ে থাকা আত্মাকে কি জাগাতে পারছি? সেই কবে কোন পাপের কাঠির ছোঁয়ায় ঘুমিয়ে পড়েছে, আমাদের রুহ। হায়! তাকে আর জাগিয়ে তোলা হয়নি। ঘুমের ঘোরেই সে চলছে গাফেলের মতো। চালাচ্ছে আমাদেরও। অথচ মুমিনের রুহ তো এক মুহূর্তের জন্য ঘুমানোর কথা নয়। হাদিস শরিফে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা যারা, যারা আল্লাহকে ভালোবাসেন, তাদের চোখ ঘুমালেও অন্তর ঘুমায় না।’ একবার দু’জন সাহাবি এসেছেন রাসূল (সা.) এর কাছে কী বিষয়ে যেন পরামর্শ করবেন। এসে দেখেন নবীজি (সা.) ঘুমিয়ে আছেন। তখন একজন আরেকজনকে বলল, চল ফিরে যাই। নবীজি জেগে উঠলে আবার আসব। তারা ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। তখন নবীজি ওঠে বললেন, হে প্রিয় সাহাবি! আমি ঘুমাই ঠিকই; কিন্তু আমার রুহ ঘুমায় না। বল কি জন্য এসেছিলে?’

যারা সুফি, আল্লাহর অলি, তারাও নবীজির দেখাদেখি নিজের আত্মাকে জাগানোর সাধনা করেছেন। কারণ আত্মাজাগ্রত মানুষই দুনিয়া-আখেরাতে খোদাতায়ালার প্রিয় বান্দা হতে পারেন।

আল্লাহর অলিদের চোখ ঘুমায়, মন ঘুমায় না। আর আমাদের চোখ জেগে থাকে, কিন্তু মন ঘুমিয়ে থাকে জীবনভর। মনকে জাগানো যায় সিয়াম সাধনা করে। আমাদের আর তাদের মধ্যে পার্থক্য এখানেই। প্রিয়পাঠক, ইমাম গাজালি (রা.) মারেফাতের ছাত্রদের নসিহত করতে গিয়ে বলেন, হে আরেফ, মারেফাত পথের যাত্রী, তুমি যখন ঘুম থেকে জাগো, তখন খুব সতর্ক হয়েই জাগো। তোমার ঘুমিয়ে পড়া আত্মাকেও জাগিয়ে তোল। নিজেকে বলো, যদি আজ জীবনে যদি আমি আমার ঘুমন্ত আত্মাকে জাগাতে না পারি, তাহলে দু’চোখ বোঝার পর কিন্তু আমার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন জীবন। মনকে বলো, আল্লাহ চেয়েছেন, তাই আমি আজ জাগতে পেরেছি। এমন একদিন আসবে, ঘুমিয়ে পড়ব। কিন্তু তিনি আর জাগতে দেবেন না। তখন তোমার কী হবে হে আমার আত্মা।

প্রিয়পাঠক, রমজান এসেছে আত্মার দীনতা ধুয়ে-মুছে ফেলতে। ঘুমিয়ে পড়া নফসকে জাগিয়ে তুলতে। গাফেলকে সতর্ক করতে। তো আপনি যখন সেহরির জন্য জাগেন, তখন খুব আবেগ নিয়ে, প্রেম নিয়ে আপনার ভেতরে থাকা নফসকে নসিহত করুন। দু’চার মিনিট তার সঙ্গে একান্তে আলাপ করুন। নফস আপনার শত্রু। তাকে বন্ধু বানানোর চেষ্টা করুন। দেখবেন সে আর আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে না। রাসূল (সা.)ও এ কাজটিই করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের সবার সঙ্গেই একটি শয়তানি শক্তি নফস দেয়া হয়েছে। এজন্যই তোমাদের মনে খারাপ কাজের ইচ্ছা জাগে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ভেতরও কি সে শক্তি আছে? রাসূল (সা.) বললেন, আমি আমার নফসকে মুসলমান বানিয়ে নিয়েছি। এখন সে আর আমার শত্রু নয়। সে আমার বন্ধু হয়ে গেছে। আসুন, আমরা আমাদের ঘুমিয়ে পড়া আত্মাকে সিয়াম সাধনা করে জাগিয়ে তুলি। তাকে আমাদের বন্ধু বানিয়ে নিই। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সাহায্য করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ