বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

১০ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেফতার

১০ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেফতার

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনগর প্রতিনিধি :: দীর্ঘ এক দশক পর পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার জয়িতা হাসনা বেগম মনির মামলায় গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম শাহাবুদ্দিন (৪৩)।

আজ শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ তার বাড়ি মুমিনপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিলেট কোর্টে পাঠিয়েছে। তার পিতার নাম কাওছার আহমদ।

রাজনগরের হাসনা হেনা মনির করা মামলায় (৪১/১০) লন্ডনি জামাই আসামী শাহাবুদ্দিন পলাতক ছিলেন। এর আগে তিনি ব্রিটেনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ৪বছর জেল খাটেন এবং সেদেশের আদালত তার নাগরিকত্ব বাতিল করে।

হাসনা বগমের ওপর করা নির্যাতন নিয়ে ‘নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরুর’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হন।

এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি স্বীকৃতি স্বরুপ ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের মৃত কুয়াই মিয়ার মেয়ে হাছনা বেগমের বিয়ে হয়েছিল ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নূরপুর গ্রামের কাউছার আহমদের ছেলে ইংল্যান্ড প্রবাসী শাহাব উদ্দীনের সঙ্গে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। বিয়ের কারণে আর পরীক্ষা দিতে পারেন নি।

বিয়ের দুই মাসের মাথায় ইংল্যান্ড প্রবাসী স্বামী চলে যান বিলেতে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় সুখের স্বপ্নে ভাসতে থাকা হাসনার জীবনও। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন মালামাল দিলেও নতুন করে চাপ আসতে থাকে শ্বশুর-শ্বাশুড়ি আর দেবরদের কাছ থেকে। কিছু দিনের মধ্যে এই চাপ রূপ নেয় শারীরিক নির্যাতনে। যৌতুকের আশায় বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হতো। এদিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি অনুযায়ী দুই তিনবারে যৌতুক হিসেবে সাড়ে ৩ লাখ টাকাও দেন। কিন্তু এরপরও থামেনি নির্যাতনের মাত্রা।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনা-হাছনা বেগমের বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেয়া কাঠের ফার্নিচারগুলোও বিক্রি করে দেন শ্বশুর। তিনি এর প্রতিবাদ করনে। এতেই তার ওপর শুরু হয় লোমহর্ষক নির্যাতন। নির্যাতনের কারণে একসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ফেলে দেয়া হয় বাড়ির পিছনের হাওরে। হাওরে মাছ ধরতে থাকা এক জেলে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান হাসপাতালে। জ্ঞান ফিরলে সবাইকে তার নির্যাতনের কাহিনী শোনান। সেখান থেকেই চলে আসেন বাবার বাড়ি। শুরু করেন নতুন করে জীবন গড়া। আবারো বই-খাতা কিনে প্রস্তুতি নিতে থাকেন এইচএসসি পরীক্ষার। সেই সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের আসামী করে মামলাও করেন।

এইচএসসি শেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক শেষ করেন। পরে এমসি কলেজ থেকে মাষ্টার্স করেন। হাছনা বেগম বর্তমানে টেংরা শহীদ সুদর্শন উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষককতা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ