রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

২০ মিনিট মৃত ছিলেন এই যুবক!

২০ মিনিট মৃত ছিলেন এই যুবক!

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃতঘোষিত হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পর জেগে উঠেন এক যুবক। মিশিগানের লিভোনিয়ায় একটি প্রজেক্টে সৎ বাবাকে কাজে সাহায্য করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ২০ বছরের যুবক মাইকেল প্রুইট।

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা মাইকেল প্রুইট বলেন, ‘একটি মই সরাচ্ছিলাম এবং মইটি পিছনের দিকে হেলান দিয়ে রাখতে গেলেই সেটি বিদ্যুতায়িত হয়। এর পরে আমার আর কিছু মনে নেই। আমি চোখে অন্ধকার দেখছিলাম।’

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর প্রুইটের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় প্রজেক্টের কর্ণধার জরুরি নম্বর ৯১১ এ ফোন করেন এবং প্রুইটের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি। পরে তাকে বিউমন্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

প্রুইটের সৎ বাবা কেইথ জ্যাকবস বলেন, ‘হাসপাতালে পৌঁছার আগ পর্যন্ত প্রুইটের হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না। কমপক্ষে ২৫ মিনিট তার হৃদস্পন্দন বন্ধ ছিল।’

হাসপাতালে ডাক্তার প্রুইটের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে ডেফিব্রিল্যাটর দিয়ে শক দিতে থাকেন। প্রথম পর্যায়ে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু ডাক্তাররা হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।

ডা. অ্যাঞ্জেল চাডলার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘প্রুইটকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার হৃদস্পন্দন বন্ধ ছিল। আমি আমার সহযোগীদের সাহস যোগালাম যে, আমরা ছেলেটির হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনব। পরে প্রুইটকেও বলেছি যে, তোমার ভাগ্য ভালো যে জীবন ফিরে পেয়েছ।’

ডাক্তাররা জানান, মানবদেহে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাঁচ মিনিট পর থেকেই মস্তিষ্কের কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে এবং আস্তে আস্তে স্থায়ীভাবে মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যায়।

ডাক্তাররা যখন বার বার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে পারছিলেন না, প্রুইটের সৎ বাবা তখন আশাহত হয়ে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে ডাক্তারদের একটি শক্তিশালী শকের পরে প্রুইটের হৃৎপিণ্ড আবারো চলতে শুরু করে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, প্রুইটের মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় ডাক্তাররাও অভিভূত হয়ে যান।

প্রুইট বলেন, ‘আমি জেগে উঠলাম এবং সবকিছু আগের মতোই অনুভব করছিলাম। চিৎকার করে উঠলাম, কী হচ্ছে? আমি এখন কোথায়? কিন্তু খুবই আনন্দের বিষয় ছিল কারণ সামনেই আমার বান্ধবী ও আমার মা বসেছিলেন। তারা খুবই খুশি ছিলেন এবং কান্না করছিলেন। এসব দেখে আমি হতভম্ব হয়ে যায়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ